DSE-logo_banglanews2420161208155654ফয়সাল মেহেদী : দুই আসনের বিপরীতে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারধারী পরিচালক পদে চূড়ান্তভাবে লড়ছেন চারজন প্রার্থী। আগামীকাল ভোটের মাঠেই নির্ধারণ হবে প্রার্থীদের মধ্যে এবার কোন দু’জন হবেন ডিএসই’র শেয়ারধারী পরিচালক। তবে নির্বাচনে জয়-পরাজয় যাই হোক বাজার উন্নয়নে ও ব্রোকারদের স্বার্থ রক্ষা একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা।

জানা গেছে, বর্তমান শেয়ারধারী পরিচালক খাজা গোলাম রসূল ও মোহাম্মদ শাহজাহানের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে স্টক এক্সচেঞ্জ পর্ষদে দুটি পদ শূন্য হচ্ছে। এই দুই আসনের জন্য পরিচালক নির্বাচন হবে আগামীকাল। এ নির্বাচনে লড়বেন চারজন প্রার্থী। তারা হলেন- এসএআর সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ আতাউর রহমান, ধানমন্ডি সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান খান, র‌্যাপিড সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হানিফ ভূঁইয়া ও কান্ট্রি স্টকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা আসিফ আহমেদ।

নির্বাচন সম্পর্কে প্রার্থীরা জানান, শেষ মুহুর্তের প্রচার-প্রচারনায় ব্যস্থ সময় কাটাচ্ছেন তারা। ঘুরছেন ভোটারদের ধারে ধারে। নির্বাচন মানেই জয়-পরাজয়। ভোটাররা যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই ভোট দিবেন। তাদের ভোটেই প্রার্থীদের মধ্যে দু’জন শেয়ারধারী পরিচালক নির্ধারণ হবে। জয়-পরাজয় যাই হোক দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে, ব্রোকারদের এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় মিলেমিশে একত্রে কাজ করতে আগ্রহী প্রার্থীরা। নির্বাচন সুষ্টুভাবে সম্পন্ন করাই এখন প্রার্থীদের মূল চ্যালেঞ্জ।

প্রার্থীদের মধ্যে ধানমন্ডি সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান খান দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণকে জানান, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজার যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তাই ভোটাররা আমকে সুযোগ দিলে পুঁজিবাজার উন্নয়নে জন্য কাজ করাই হবে আমার মূললক্ষ্য। এছাড়া বর্তমানে বোর্ডে যেহেতু শেয়ারধারী পরিচালকদের সংখ্যা কম, তাই সদস্য হাউজগুলোর স্বার্থকে অবশ্যই প্রধান্য দিব। ভোটাররা সঠিক প্রার্থী চিনতে ভুল করবেন না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

র‌্যাপিড সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হানিফ ভূঁইয়া বলেন, এবারের নির্বাচনে আমি একজন প্রার্থী। তবে নির্বাচনের মাঠে প্রার্থী হলেও বাজারের স্বার্থে আমরা সবাই এক। ভোটাররা যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকে ভোট দিবেন। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক বাজার উন্নয়নে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

জানা গেছে, এ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার জন্য নির্ধারিত সময় ছিল ২০ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন মোট চারজন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ ছিল ১৪ মার্চ বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে চারজনের মধ্যে কেউই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেনি। ওইদিনই যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। আগামীকাল ২১ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। মতিঝিলের ডিএসই ভবনের নিচতলায় এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা শেষে সেদিনই ফলাফল জানাবে নির্বাচন কমিশন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে ডিএসইর ৫৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএমে)।

নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনের অন্য ২ সদস্য হলেন- হারুন সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুন-উর-রশিদ ও এম অ্যান্ড জেড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম মনজুর উদ্দিন আহমেদ।

প্রসঙ্গত, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের আইন অনুসারে স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদে মোট ১৩ জন সদস্য থাকেন। এর মধ্যে সাতজন স্বতন্ত্র পরিচালক, চারজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, একজন কৌশলগত বিনিয়াগকারী পরিচালক ও ১জন স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। শেয়ারহোল্ডার পরিচালকরা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হন। কারো মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করে ডিএসই।

উল্লেখ্য, শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নির্বাচনের মাধ্যমে সর্বশেষ ২০১৬ সালে ডিএসইর পর্ষদে আসেন স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান।