মোবারক হোসেন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানি প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধিকে সন্দেহে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। কোন কারণ ছাড়াই গত সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩০ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। যা খালি চেখে দেখা যায় কারসাজির লক্ষণ। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক ঘটনায় এই বিভাগের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

পুঁজিবাজারে কারসাজির ঘটনা থামছে না, বরং নতুন নতুন কৌশলে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।  অথচ বাজারের এসব অনিয়ম ধরার জন্য থাকা সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে কিছু ক্ষেত্রে সার্ভিল্যান্স বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তারা পুঁজিবাজারের স্পর্শকাতর তথ্য আগে থেকেই পেয়ে গোপনে লেনদেন করছেন অথবা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দিচ্ছেন। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতারিত হচ্ছেন, আর কিছু সুবিধাভোগী গোষ্ঠী বিপুল অর্থ লাভ করছে। তবে কোম্পানিটি শেয়ার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েই চলেছে। অথচ ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ারে আস্থা সংকটে বিনিয়োগকারীরা।

প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স গত পাঁচ বছর শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত করেছে। ফলে কোম্পানিটির শেয়ার দর বাড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া গত এক মাসের মধ্যে কোম্পানিটি শেয়ারের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এভাবে শেয়ারের দাম বাড়লেও দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে পারছে না। ২০১৯ সালের পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩০ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ১৪ টাকা ৪০ পয়সা। এতে এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম সম্মিলিতভাবে বেড়েছে ২৩ কোটি ৯৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৯০ টাকা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ৩০ পয়সা, যা আগের সপ্তাহের শেষে ছিল ৪৭ টাকা ৯০ পয়সা।

শুধু গত সপ্তাহে নয়, ১৯ ফেব্রুয়ারির পর থেকেই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম টানা বাড়ছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৩৫ টাকা। সেখান থেকে টানা বেড়ে ৬২ টাকা ৩০ পয়সা হয়েছে। অর্থৎ প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৭ টাকা ৩০ পয়সা। শেয়ারের এমন দাম বাড়া কোম্পানিটি ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেয়। তার আগে ২০১৮ সালে ১২ শতাংশ বোনাস শেয়ার এবং ২০১৫ সালে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। ২০১৯ সালের পর আর কোনো লভ্যাংশ দিতে না পারায় কোম্পানিটি বর্তমানে পচা ‘জেড’ গ্রুপে রয়েছে।

কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা এক কোটি ৬৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৬৬টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তার কাছে রয়েছে ৩৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ।