শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে হঠাৎ করে টানা দরপতনে ফের আস্থা সংকটে ভুগছেন বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবস সূচকের দরপতন হয়েছে।

ফলে নতুন বছরের জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারি মাস সূচকের উঠানামা থাকলেও মার্চ মাসের শুরু থেকে পতনের কবলে পুঁজিবাজার। এছাড়া টানা দরপতনে আস্থা সংকটের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ের বড় বিনিয়োগকারীরা সাইডলাইনে অবস্থান করছেন। ফলে প্রতিনিয়তই কমছে লেনদেন ও শেয়ারের দাম।

এদিকে প্রতিনিয়ত পতন হওয়ায় পুঁজিবাজারে আগ্রহ হারাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। টানা দরপতনে অনেকে আর ভরসা রাখতে পারছেনা। এ আস্থাহীনতার কারণে পুঁজিবাজার আর আগের গতি ফিরে পাচ্ছেন না বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভুল সিদ্ধান্ত ও বিগত সরকারের লুটপাটই অব্যাহতভাবে পুঁজিবাজারে দরপতন হওয়ার কারণ। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে জরিমানা হিড়িকে পুঁজিবাজারের ওপর একটা প্রভাব পড়েছে। এ থেকে বের হতে অনেক সময় লাগবে।

জানা গেছে, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক .৭৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৫৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৯৬ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৮ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮৩ টির, দর কমেছে ২৫৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬২ টির। ডিএসইতে ৪২১ কোটি ২৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৭৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৯৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫২৬ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৯৩ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৪ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১২০টির এবং ১৯ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।