ব্যাংক খাতের শেয়ারে ঢালাও দরপতনে কমেছে সূচক ও লেনদেন
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে ব্যাংক খাতের শেয়ারে ঢালাও দরপতনে সূচক ও লেনদেনে ভাটা পড়েছে। মুলত ব্যাংক খাতের শেয়ার বাড়লে সূচক বাড়ে, তেমনি ব্যাংক খাতের শেয়ার কমলে সূচক কমে। এর মাধ্যমে টানা দুই কার্যদিবস পুঁজিবাজার দরপতনের মধ্যে লেনদেন শেষ হয়েছে।
এদিকে ব্যাংক খাতের শেয়ারে কারেকশন হলেও জুন ক্লোজিং শেয়ারে আগ্রহ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। এর আগে গত সপ্তাহের শেষ দুই কার্যদিবস এবং চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ে লেনদেনের গতি। ডিএসইতে চলতি বছরে প্রথমবারের মতো এক হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয় গত রোববার। তবে এর পরেই দেশের পুঁজিবাজারে ফের দরপতনের ধারা দেখা যাচ্ছে।
ফলে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। কিন্তু প্রথম আধাঘণ্টার লেনদেন শেষ হওয়ার আগেই একের পর এক ব্যাংকের শেয়ার দাম কমতে থাকে। ব্যাংকের শেয়ার দাম কমার প্রবণতা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যহত থাকে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতের ওপরও। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক খাতের শেয়ারে টানা দরবৃদ্ধির পর কারেকশন স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ। তাছাড়া এই পতন বাজার সংশোধনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। অনেক বিনিয়োগকারী তাৎক্ষণিক প্রফিট টেকিংয়ের চাপে সূচকের কিছুটা পতন হয়েছে। তবে বাজার নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তারা আরো বলেন, ব্যাংক খাতের শেয়ারের পতন হলেও জুন ক্লোজিং শেয়ারে আগ্রহ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। এটা বাজারের জন্য ভাল দিক। বাজার ঘুরে ফিরে সব সেক্টরে প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া নির্বাচনী প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রশমনের আভাস বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হবে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও নতুন বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণেও বাজারে ইতিবাচক গতি আসতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের সাথে সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪৭১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১২৫ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৪০০ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৪ টির, দর কমেছে ১৮৪ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬২ টির। ডিএসইতে ৮৮৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯১১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩৫৫ পয়েন্টে। সিএসইতে ২১৯ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১০৭ টির এবং ৩১ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৫৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



