সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারে মূলধন বেড়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা, স্থিতিশীলতার পথে হাঁটছে
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের মাথায় স্থিতিশীলতার পথে হাঁটছে শুরু করছে দেশের পুঁজিবাজার। ফলে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর তাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ ছিল লুটপাট হওয়া পুঁজিবাজারে সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। গত এক বছরে সরকারের সদিচ্ছা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উদ্যোগে পুঁজিবাজার থেকে হারানো আস্থা ফিরতে শুরু করেছে।
ফলে গত কয়েকদিনের তেজিভাবের কারণে ফের বাজারমুখী হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। একই সঙ্গে বাজারে যে অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছিল, সেটা স্বস্তিকর অবস্থায় ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করছে। ফলে সূচকের উঠানামার মধ্যে স্থিতিশীল হচ্ছে পুঁজিবাজার। বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে লেনদেনের গতি বাড়ছে। এতে লেনদেনে একের পর এক রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সপ্তাহজুড়ে সূচকের উত্থানে টাকার পরিমাণে লেনদেন বেড়েছে।
সপ্তাহটিতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। যার ফলে গত সপ্তাহে ডিএসইতে ১০ হাজার ১৭৫ কোটি টাকার বাজার মূলধন বেড়েছে। এ সময়ে ডিএসই ও সিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন বেড়েছে। ফলে সপ্তাহজুড়ে উভয় পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন বেড়েছে ১৬ হাজার ৮৮৫ কোটি ১ লাখ টাকা। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮ হাজার ১৮১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন ১০ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়েছে।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ৫ হাজার ৭২৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।
আগের সপ্তাহে হয়েছিল ৪ হাজার ৫৩৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ১ হাজার ১৯৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫১৭ পয়েন্টে।
অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৬ পয়েন্ট এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ২০৭ পয়েন্টে এবং ২ হাজার ১৫৬পয়েন্টে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৯৬ টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ২৬৮ টির, কমেছে ১০৫ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩ টির শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।
সপ্তাহজুড়ে অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৩২.৩৬ পয়েন্ট বা ২.২১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩৫৭ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ১.৪৫ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ৪৮২ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক ২.৪৬ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৪৪৫ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ১.১৪ শতাংশ বেড়ে ৯৬৮ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) ০.০৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৪৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৬ হাজার ৭১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ১২৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৬৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৫৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।



