গ্রাহকদের কাছে আস্থার শীর্ষে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: মানুষের জীবন ও সম্পদ সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সম্ভাব্য বিপদ মোকাবেলা করার হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলে বিমা। নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম প্রদানের বিনিময়ে অপরপক্ষের নিশ্চয়তা ও ঝুঁকি গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকারের মাধ্যমে বিমা করে থাকে মানুষ। দেশে এমন বিমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কম নয়। তবে বিশ্বাসযোগ্য এবং আস্থাশীল বিমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে হাতেগোণা কয়েকটি।
বাংলাদেশে ৬২টি বিমা কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে ২টি সরকারি (জীবন বিমা ও সাধারণ বিমা), ৬০টি বেসরকারি। বেসরকারি বিমার মধ্যে আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বিদেশি। নিশ্চয়তা ও ঝুঁকি গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণের প্রথম সারির বেসরকারি জীবন বিমা কোম্পানি গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
মুলত গার্ডিয়ান লাইফ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের সঙ্গে সকল ধরনের নগদ লেনদেন চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রিমিয়াম সংগ্রহ ও দাবি নিষ্পত্তি শতভাগ ক্যাশলেস পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে। আর এই পদক্ষেপের মাধ্যমে গার্ডিয়ান লাইফ নিজেদের দেশের প্রথম ও একমাত্র সম্পূর্ণ ক্যাশলেস ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। গার্ডিয়ানের প্রিমিয়াম শুধু মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে জমা করতে হয়।
আর দাবি নিষ্পত্তির ব্যাপার হলে সেটিও শুধুমাত্র ব্যাংকের মাধ্যমেই গ্রাহককে পরিশোধ করা হয়। এই ক্যাশলেস সেবা দেওয়ার মাধ্যমে গ্রাহক, গার্ডিয়ান লাইফ এবং যে মাধ্যমে পেমেন্ট করা হয়েছে; অর্থাৎ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত সকল পক্ষ প্রতিটি লেনদেনের স্পষ্ট ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ করতে পারবে, যা পরবর্তীতে যেকোনো প্রয়োজনে আর্থিক লেনদেন শনাক্তকরণে সহায়তা করবে।
এটা শুধু একটি প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে কোম্পানির উন্নয়ন নয়, এটি প্রকৃতপক্ষে গ্রাহকের আস্থার উন্নয়ন। সকল গ্রাহক আর্থিক কার্যক্রমে আরো বেশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানসিক শান্তি উপভোগ করতে পারেন। কারণ, তাদের অর্থ আর কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ফলে দিন দিন গ্রাহকদের কাছে আস্থার শীর্ষে হয়ে উঠছে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
মুলত বীমা, বিশেষ করে জীবন বীমা, অনেকের জন্য এখনও কিছুটা অস্পষ্ট। অনেকে দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন, আবার অনেকে জানেন না এর সব সুবিধা। এমনও প্রশ্ন শোনা যায় ‘ব্যাংকে টাকা রেখে আর বীমা করা, কি একই সুবিধা পাওয়া যায়?’ উত্তরটি স্পষ্ট: ব্যাংক ও বীমা দুটি ভিন্ন আর্থিক চাহিদা পূরণ করে। ব্যাংক আপনাকে সঞ্চয়ে সহায়তা করে, আর বীমা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেমন দুর্ঘটনা বা মৃত্যুতে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে নির্ধারিত আর্থিক সুরক্ষা দেয়। এছাড়া জীবন বীমা সঞ্চয়েরও সুযোগ প্রদান করে।
সঠিক পরিকল্পনার গুরুত্ব: বীমার মূল উদ্দেশ্য হলো আর্থিক সুরক্ষা। বীমা নেওয়ার সময় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে সঠিক ‘পলিসি’ নির্বাচন করতে হবে। এই ক্ষেত্রে বীমা কোম্পানির প্রতিনিধি বা ‘আর্থিক সহযোগী’ কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া যুক্তিযুক্ত। কত টাকার বীমা করা প্রয়োজন, তা নির্ভর করে আপনার পরিকল্পনা এবং আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজনীয়তার ওপর।
হয়তো আপনি চান জটিল অসুস্থতা বা চিকিৎসা খরচের জন্য, আপনার অবর্তমানে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য, অবসর জীবনে নির্বিঘ্ন জীবনযাপনের জন্য। এছাড়া, ভবিষ্যতে কত টাকা প্রয়োজন হবে তা হিসাব করে বীমা করা উচিত। পলিসির মেয়াদও নির্ধারণ করা হয় সেই সময়সীমার ওপর, যার জন্য আপনি আর্থিক সুরক্ষিত থাকতে চান।
বীমা দাবি ও মেয়াদপূর্তির টাকা: বীমা পলিসির মেয়াদ শেষে বা কোনো দাবি করলে, সঠিক ডকুমেন্ট থাকলে সময়মতো বীমার টাকা পাওয়াই আপনার অধিকার। প্রতিটি কোম্পানির দাবি পরিশোধের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। মেয়াদকালে কোনো দাবি না করলে মেয়াদপূর্তির অর্থ বা ম্যাচিউরিটি ভ্যালু পাওয়া যায়। তবে এর জন্য পলিসি পুরো মেয়াদ ধরে সচল থাকা জরুরি।
পলিসির মেয়াদ ও প্রিমিয়াম: বীমার বিভিন্ন মেয়াদ রয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদের পলিসি নেওয়াই ভালো। কারণ এতে নিরবচ্ছিন্ন আর্থিক সুরক্ষা পাওয়া যায়। কম মেয়াদ শেষে পুনরায় বীমা নিলে প্রিমিয়ামও বেশি হয়। প্রিমিয়াম নিয়মিত দেওয়াও অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সময়ে ঘরে বসে অনলাইনে বা মোবাইলে প্রিমিয়াম পরিশোধ করা সম্ভব। প্রিমিয়ামের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় পলিসির মূল মূল্য, মেয়াদ, গ্রাহকের বয়স ও স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে। নিয়মিত প্রিমিয়াম না দিলে পলিসি তামাদি হয়ে যায় এবং আর্থিক সুরক্ষা মিলবে না।
অসুস্থতা ও বীমার সুবিধা: অনেকে মনে করেন, বীমার টাকা কেবল মৃত্যুর পরই পাওয়া যায়। এটি সঠিক নয়। জীবন বীমার অর্থ হাসপাতালে ভর্তি, অক্ষমতা, চিকিৎসা খরচ বা মেয়াদপূর্তির সময়ও প্রদান করে। গুরুতর রোগ বা চিকিৎসার জন্য বীমা নিলে আপনি ও আপনার পরিবার মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকতে পারবেন।
কোথায় বীমা করবেন: দেশে অনেক জীবন বীমা কোম্পানি রয়েছে। বীমা নেওয়ার আগে খোঁজ নেওয়া জরুরি—আপনি যে ধরনের বীমা চাইছেন, সেটি কোন কোম্পানি প্রদান করছে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে পণ্যের বর্ণনা, সেবা ও দাবির ইতিহাস পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আপনার পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে।
এ প্রসঙ্গে গার্ডিয়ান লাইফের এএমডি ও ভারপ্রাপ্ত সিইও শেখ রকিবুল করিম বলেন, দাবি নিষ্পত্তি শুধু লেনদেনই নয়; আমাদের কাছে দাবি পরিশোধের মানে হচ্ছে গ্রাহকদের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রমাণ। সব বীমা কোম্পানি খারাপ নয়। গ্রাহককে সবার আগে বুঝতে হবে, কোথায় তাঁর বিনিয়োগ নিরাপদ। নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের উচিত বীমা কম্পানিগুলোর স্বাস্থ্য প্রতিবেদন প্রকাশ করা।
প্রতিবেদন দেখলে সাধারণ গ্রাহক বিনিয়োগের আগে ভালো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে পারত। বর্তমান সমস্যা সমাধানে কোম্পানিগুলোর প্রধান সমস্যা বা গ্যাপ কোথায় আছে, সেগুলো খুঁজে বের করতে হবে। সেগুলো সমাধান করতে হবে সবার আগে। তা ছাড়া মার্কেটে নতুন নতুন ভালো কোম্পানি এলে পুরো খাতের চিত্র পাল্টে যাবে। এর জন্য দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা বন্ধ হওয়া উচিত।



