আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার কারসাজিতে ১১ কোটি টাকা জরিমানা
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারদর কারসাজির অভিযোগে তিন কোম্পানিকে মোট ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ফারুক এন্টারপ্রাইজ, রাইয়ান ট্রেডিং ও ইসলাম এন্টারপ্রাইজ। কমিশনের এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন বিভাগ গত মাসে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।
বিএসইসির তথ্যানুসারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন-সংক্রান্ত কার্যক্রম তদন্ত করে। তদন্তে দেখা যায়, ৫ ফেব্রুয়ারি লেনদেনের শুরুতে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৭৪ টাকা ৫০ পয়সা। ৯ মে লেনদেন শেষে কোম্পানিটির সমাপনী দর দাঁড়ায় ১৩৬ টাকা ১০ পয়সায়। এ সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৬১ টাকা ৬০ পয়সা বা ৮২ দশমিক ৬৮ শতাংশের বেশি।
নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, উল্লিখিত সময়ে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেনে ফারুক এন্টারপ্রাইজ ও তাদের সহযোগীরা সক্রিয় ছিলেন। এ সময় তারা কোম্পানিটি থেকে ১ কোটি ৫৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৯৯টি শেয়ার কেনেন এবং ১ কোটি ৪৫ লাখ ৮০ হাজার ৮৩৯টি শেয়ার বিক্রি করেন। ডিএসইর তথ্যমতে, সংশ্লিষ্ট বিও অ্যাকাউন্টগুলো আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের মোট লেনেদনের ৩০ দশমিক ৮৭ শতাংশ পরিচালনা করেছে।
লেনদেনের ফলে ফারুক এন্টারপ্রাইজ ও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো ১২ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৬১২ টাকা মূলধনি মুনাফা করে। পাশাপাশি পোর্টফোলিওতে থাকা অবিক্রীত শেয়ার থেকে আরো ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৩৫ হাজার ৭০৮ টাকার মূলধনি মুনাফা হয়।
উল্লিখিত সময়ে ফারুক এন্টারপ্রাইজ এককভাবে ৩ কোটি ৪৪ লাখ ১৬ হাজার ৮৪৯ টাকা মূলধনি মুনাফা করে। পাশাপাশি পোর্টফোলিওতে থাকা অবিক্রীত শেয়ার থেকে আরো ২ কোটি ২৭ লাখ ৪৯ হাজার ৮৯ টাকা মূলধনি মুনাফা হয়। এছাড়া রাইয়ান ট্রেডিং ৩ কোটি ১০ হাজার ৯৩৪ টাকা মূলধনি মুনাফা করে। পাশাপাশি পোর্টফোলিওতে থাকা অবিক্রীত শেয়ার থেকে আরো ২ কোটি ৬৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪৩৭ টাকা মূলধনি মুনাফা হয়।
আর ইসলাম এন্টারপ্রাইজ ৫ কোটি ৮০ লাখ ৮৭ হাজার ৫০৪ টাকা মূলধনি মুনাফা করে। পাশাপাশি পোর্টফোলিওতে থাকা অবিক্রীত শেয়ার থেকে আরো ২ কোটি ৮৬ লাখ ৬২ হাজার ৫০৫ টাকা মূলধনি মুনাফা হয়। তদন্তে আরো দেখা যায়, ওই সময় ফারুক এন্টারপ্রাইজ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্রেতা ছিল। প্রতিষ্ঠানটি আরো ১৫টি সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন করেছে।
এ অস্বাভাবিক অংশগ্রহণ ও কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করে শেয়ারদর বাড়ানো সিকিউরিটিজ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ও চলতি বছরের ১৪ মে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানো ও শুনানিতে অংশ নিতে বললেও প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
শেয়ারদর কারসাজির মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ফারুক এন্টারপ্রাইজকে ৩ কোটি ১২ লাখ, রাইয়ান ট্রেডিংকে ২ কোটি ৭৩ লাখ ও ইসলাম এন্টারপ্রাইজকে ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বিএসইসি। নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



