আস্থা সংকটে হাহাকার পুঁজিবাজার, কাটছে না আতঙ্ক
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে এক কার্যদিবস কিছুটা উত্থানের পর ফের দরপতনের বৃত্তে পুঁজিবাজার। এছাড়া লেনদেন খরা কাটছে না পুঁজিবাজারে। লেনদেন বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও টাকার পরিমাণ কমছে। সপ্তাহে একদিন কিছুটা উন্নতি হলে পরের চার কার্যদিবস টানা দরপতন হচ্ছে। এমন অবস্থা গত তিন মাসজুড়েই পুঁজিবাজারে।
এছাড়া টানা দরপতনে বাজার নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না বিনিয়োগকারীদের। কারণ বর্তমান বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই বললেই চলে। এর মধ্যে নতুন করে দরপতনে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে বিনিয়োগকারীদের। ফলে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুল চ্যালেঞ্জ। কারণ শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরও গত ১৫ মাসে টানা দরপতনে নতুন করে বাজারের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছেন বিনিয়োগকারীরা। যার কারণে আতঙ্ক কাটছে না।
কারণ শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর বাজার ভাল হবে এমন প্রত্যাশা ছিলো লাখ লাখ বিনিয়োগকারীদের। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে বিশাল ফারাক। ফলে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগে সাহস পাচ্ছেন না। এছাড়া নতুন বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখী হচ্ছে না। যার ফলে আস্থা ও তারল্য সংকটে কাটছে পুঁজিবাজার। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট দূরীকরণের সুশাসনের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন একাধিক বিনিয়োগকারীরা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের পুঁজিবাজার এখন যেন দোলাচলের মাঠ। একদিন সূচক সামান্য মাথা তোলে, পরদিনই আবার ধপ করে পড়ে যায়। এই ওঠানামার সুযোগ নিচ্ছে একদল প্রভাবশালী চক্র বাজারকে কখন উপরে ঠেলে দিচ্ছে, কখন নিচে নামাচ্ছে, তার সবটাই নাকি চলে অদৃশ্য ইশারায়। ফলে বাজারে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরছে না, কাঁধে ধরে ক্ষতির বোঝা টেনে চলছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরের ভুল সিদ্ধান্তে পুঁজিবাজারকে অস্থির করে তুলছে। এছাড়া পুঁজিবাজার নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্রিয় তদারকি চোখে পড়ছে না। বরং একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে বাজারকে অস্থির করে তুলছে। যার ফলে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ করতে হলে দ্রুত মনিটরিং জোরদার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
জানা গেছে, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার পরিমানে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯২৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৯৮ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৪ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৯৩ টির, দর কমেছে ২৩৬ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৫ টির। ডিএসইতে ৪০৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৭৯ কোটি ৭ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৬২ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮১ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৭৩ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭৯ টির এবং ২৯ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৩ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



