সিমেন্ট খাতের ৭ কোম্পানির মুনাফার হালচাল, বেড়েছে ৪টি
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা:চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের সাত কোম্পানির মধ্যে চার কোম্পানির আয় বেড়েছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের সাত কোম্পানির মধ্যে চার কোম্পানির আয় বেড়েছে। বিপরীতে দুই কোম্পানির আয় কমেছে। এ খাতের আরেক কোম্পানি আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডের উৎপাদন গত জুলাই থেকে বন্ধ থাকায় আলোচ্য সময়ের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কনফিডেন্স সিমেন্ট পিএলসি, ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসি, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসি ও হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস বাংলাদেশ পিএলসির আয় বেড়েছে। এ চার কোম্পানির তিনটির নিট মুনাফাও এ সময়ে বেড়েছে। আর হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে। অন্যদিকে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসির আয় ও নিট মুনাফা কমেছে এবং মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসির আয় কমার পাশাপাশি নিট লোকসান বেড়েছে।
কনফিডেন্স সিমেন্ট: কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি মুনাফা হয়েছে ৩ টাকা ৯৭ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ের ছিলো ৩ টাকা ৯৬ পয়সা। চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে (প্রথম প্রান্তিক) কোম্পানিটির আয় হয়েছে ১০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা,
আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৪ কোটি ১১ লাখ টাকা। এ সময়ের ব্যবধানে কনফিডেন্স সিমেন্টের আয় বেড়েছে ২৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আয় বাড়ার পাশাপাশি জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটি কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেড়ে ৩৪ কোটি ২৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ক্রাউন সিমেন্ট: কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি মুনাফা হয়েছে ৪৫ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ের ছিলো ২৫ পয়সা। চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে (প্রথম প্রান্তিক) কোম্পানিটির আয় হয়েছে ৮৭৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময় যা ছিল ৭০০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
এ সময়ের ব্যবধানে ক্রাউন সিমেন্টের আয় বেড়েছে ২৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আয় বাড়ার পাশাপাশি জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটি কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৭৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ: কোম্পানিটির চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২৫) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি কনসুলেটেড ১ টাকা ৩ পয়সা আয় হয়েছে। গত বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ৭৬ পয়সা আয় হয়েছিল। অন্যদিকে তিন প্রান্তিক (জানুয়ারি ২৫-সেপ্টেম্বর ২৫) মিলিয়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি কনসুলেটেড ৩ টাকা ০৬ পয়সা আয় হয়েছে। গতবছর একই সময়ে ২ টাকা ৮৫ পয়সা আয় হয়েছিল।
চলতি ২০২৫ হিসাব বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে (তৃতীয় প্রান্তিক) কোম্পানিটির আয় হয়েছে ৬৬৮ কোটি ৩ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬২৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ সময়ের ব্যবধানে লাফার্জহোলসিমের আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আয় বাড়ার পাশাপাশি জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটি কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়ে ১১৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস: কোম্পানিটির চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১৬ পয়সা। গত বছর একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১৪ পয়সা। চলতি ২০২৫ হিসাব বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে (তৃতীয় প্রান্তিক) কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ৩২৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৯৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
এ সময়ের ব্যবধানে হাইডেলবার্গৈ ম্যাটেরিয়ালসের বিক্রি বেড়েছে ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানি লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে।
প্রিমিয়ার সিমেন্ট: কোম্পানিটির চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১৬ পয়সা। গত বছর একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিলো ১৪ পয়সা। চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে (প্রথম প্রান্তিক) কোম্পানিটির আয় হয়েছে ৫১৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫১৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
এ সময়ের ব্যবধানে প্রিমিয়ার সিমেন্টের আয় কমেছে দশমিক ৩১ শতাংশ। আয় কমার পাশাপাশি জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটি কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
মেঘনা সিমেন্ট: কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ার প্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ১৯ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৩ টাকা ২৯ পয়সা। চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে (প্রথম প্রান্তিক) কোম্পানিটির আয় হয়েছে ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা,
আগের হিসাব বছরের একই সময় যা ছিল ১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে এ সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় কমেছে ৮৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। আয় কমার পাশাপাশি জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটি কর-পরবর্তী নিট লোকসান আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৪৪ গুণ বেড়ে ৬৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।



