স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে গতি এসেও আসছে না। স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ বাড়ে না। আর বিনিয়োগ না বাড়লে পুঁজিবাজারে গতি বাড়ে না। এক কথায় বলা যায়, স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া পুঁজিবাজারে গতি বাড়ে না। বর্তমান সরকার বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করেছে। আস্থা আনতে পুঁজিবাজার থেকে যারা লুট করেছে তাদের শাস্তি দিতে হবে। বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিতে হবে, সুবিধা দিতে হবে।

মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য না বাড়লে পুঁজিবাজার গতিশীল হয় না। পুঁজিবাজারকে আকর্ষণীয় করতে হবে। দেশে অনেক বহুজাতিক কোম্পানি আছে যারা এখনো তালিকাভুক্ত হয়নি। দেশি-বিদেশি ভালো কোম্পানির জন্য পুঁজিবাজারে আসার পথ সহজ করে দিতে হবে।

অতীতে পুঁজিবাজারে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা অনভিপ্রেত। বর্তমান সরকার যদি এটাকে ঢেলে সাজাতে চায়, আর তা যদি ভালো কিছু হয় অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হবে। বেশ কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। এ অস্থিরতা বাড়ছে। কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পণ্য পরিবহনেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্যতম শর্ত। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা না কমলে সমগ্র অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব বাড়তে থাকবে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। আসন্ন নির্বাচন যদি স্পষ্ট রাজনৈতিক গতিপথ নিশ্চিত করে এবং নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে ব্যবসা ও আর্থিক খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কারগুলো ধরে রাখে, তাহলে দেশের প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে। বিনিয়োগ বাড়বে। কর্মসংস্থান হবে। বেকারত্ব কমবে। পুঁজিবাজারেও গতি আসবে।

একটি দেশের অর্থনীতি কতটুকু অগ্রসর হলো, তার নির্দেশক হচ্ছে সেই দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি। আর জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হচ্ছে বিনিয়োগ। সেই বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য নিরন্তর চেষ্টা চলছে। কিন্তু সেই চেষ্টা কতটুকু ফলপ্রসূ হচ্ছে তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।

দেশের সার্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি আশানুরূপ না। এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য-উপাত্ত প্রকাশিত হয়েছে, তা থেকে জানা যাচ্ছে- দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি ভালো হতে হবে। বিনিয়োগ আকর্ষণে আমাদের দরকার আর্থিক নীতি। এর মধ্যে একটি হলো রাজস্ব সম্পর্কিত। অন্যটি হলো অবকাঠামোর উন্নয়ন।