শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা কারেকশনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে টানা দুই কার্যদিবস সূচকের ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রির চাপে কারেকশন হয়েছে। তবে কারেকশন হলেও বাজার নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। মুলত পুঁজিবাজারে সূচকের উঠানামার মধ্যে স্থিতিশীলতার পথে হাঁটবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

কারণ আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের পুঁজিবাজারে কিছুটা সাড়া দেখা যাচ্ছে। লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সামান্য আস্থা ফেরার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবস পুঁজিবাজারে দরপতন হয়।

এরপর চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও পুঁজিবাজারে দরপতন হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় কার্যদিবসে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। তবে ডিএসইতে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। তবে লেনদেন বেড়ে ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে যা বাজারের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা দিলেও দিনশেষে কিছুটা পতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। মূলত লেনদেনের শেষ দেড় ঘণ্টায় এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা মাত্রাতিরিক্ত শেয়ার বিক্রির চাপে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। ফলে দিনশেষে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকয়টি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে।

অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলীর মতে, টানা দুই কার্যদিবস সূচকের উত্থানের পর বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ স্বাভাবিকভাবেই মুনাফা তুলে নিচ্ছেন। এটি বাজারের জন্য অস্বাভাবিক নয়। বরং মাঝে মধ্যে এমন মুনাফা গ্রহণ বাজারকে সুস্থ রাখে এবং অতিরিক্ত চাপে পতনের সম্ভাবনা হ্রাস করে। এছাড়া সামগ্রিকভাবে বাজারে এখনো ইতিবাচক মনোভাব বিরাজ করছে। কারণ নির্বাচনের ডামাডোল বাজতে শুরু করছে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৪১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩১ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৯৯ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৪ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১৪ টির, দর কমেছে ২২৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৩ টির। ডিএসইতে ৫৩৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৭৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বেশি। আগের কার্যদিবস লেনদেন হয়েছিল ৪৫৮ কোটি ৩ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৫১ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৭৮ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৪ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৬৮টির আর ২৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৯ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।