দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ‘জেড’ ক্যাটাগরি বা জাঙ্ক (আবর্জনা) গ্রুপে ৪০ টিরও বেশি কোম্পানি অন্তত পাঁচ বছর ধরে পড়ে আছে। দেশের পুঁজিবাজারে তাদের শেয়ার লেনদেন হচ্ছে। এমনকি কখনো কখনো এসব শেয়ার শীর্ষ দরবৃদ্ধির তালিকাতেও চলে আসছে। বছরের পর বছর এসব কোম্পানি মুনাফা করতে বা লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর মধ্যে অনেকগুলো কোম্পানি সময়মতো বার্ষিক সাধারণ সভাও (এজিএম) করে না। এসব কারণেই এদেরকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। বিনিয়োগকারীদেরকে সতর্ক করতেই এধরনের কোম্পানিকে জেড ক্যাটাগরিভুক্ত করা হয়। এর পরও এসব কোম্পানির শেয়ার ঠিকই হাতবদল হচ্ছে।  তবে গত সপ্তাহজুড়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারে আস্থা দেখা যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের। গত সপ্তাহে টপটেন গেইনার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ’জেড’ ক্যাটাগরির ৬ দুর্বল কোম্পানি।

এসব কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে লোকসান গুনছে। ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে। জেড ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলো হচ্ছে: জিলবাংলা সুগার মিলস, রিজেন্ট টেক্সটাইল, এইচ.আর টেক্সটাইল, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, নর্দার্ন জুট অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং ও উসমানিয়া গ্লাস শিট অ্যান্ড ফ্যাক্টরি লিমিটেড।

জিলবাংলা: সপ্তাহের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ২৯.৯০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ১৩২ টাকা ১০ পয়সা ; যা গত সপ্তাহে ১৭১ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন কোম্পানিটি কোন লভ্যাংশ দেয়না। ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটির ৬৪৪ কোটি ৪ লাখ টাকা পুঞ্জীভূত লোকসানে রয়েছে।

রিজেন্ট টেক্সটাইল: সপ্তাহের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ২৯.১৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ২ টাকা ৪০ পয়সা ; যা গত সপ্তাহে ৩ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটি ২০২১ সাল থেকে শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ দেয় না।

এইচ আর টেক্সটাইল: সপ্তাহের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ২১.৮৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ১৬ টাকা; যা গত সপ্তাহে ১৯ টাকা ৫০ পয়সা দাঁড়িয়েছে। কোম্পানিটি ২০২৪ সাল থেকে শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ দেয় না।

ফার্স্ট ফাইন্যান্স: সপ্তাহের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ২০.৮৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ২ টাকা ৪০ পয়সা ; যা গত সপ্তাহে ২ টাকা ৯০ পয়সা দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির ৫৬৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পুঞ্জীভূত লোকসান রয়েছে। কোম্পানিটি ২০২০ সাল থেকে শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ দেয় না।

উসমানিয়া গ্লাস শিট: সপ্তাহের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ১৯.৮৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৩০ টাকা ৭০ পয়সা ; যা গত সপ্তাহে ৩৬ টাকা ৮০ পয়সা দাঁড়িয়েছে। কোম্পানিটি ২০১৯ সাল থেকে শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ দেয় না।