রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশায় পুঁজিবাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দীর্ঘ দিনের মন্দা ও আস্থার সঙ্কট কাটিয়ে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটাল (এএফসি)। সংস্থাটির মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্বস্তি ফিরে আসা, মুদ্রাস্ফীতি কমার সম্ভাবনা এবং তুলনামূলক কম মূল্যায়নের কারণে চলতি বছর পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।
হংকং-ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান তাদের সর্বশেষ বাজার বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৫ সাল বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি হতাশার বছর হলেও ২০২৬ থেকে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে। যদিও এশিয়ার অন্যান্য ফ্রন্টিয়ার বাজার টানা তৃতীয় বছরের মতো শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। বাংলাদেশ সেখানে পিছিয়ে পড়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, নীতিগত অস্থিরতা এবং কঠোর নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তের কারণে।
ফলে নতুন বছরের শুরুতে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক ও লেনদেনের শুরুতে উত্থানে শেষ হয়েছে। ফলে বছরের শুরতে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি বাজারে লেনদেনের গতি বাড়তে দেখা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় প্রবেশদ্বার তৈরি করেছে। কারণ দীর্ঘদিন টানা দরপতনে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বিনিয়োগের উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে বড় ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো তাদের ঐতিহাসিক গড় দামের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ছাড়ে লেনদেন হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মূল্য সংশোধনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৫৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৬৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক .৬১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৮৭ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯০ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২০৪ টির, দর কমেছে ১৪৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৩ টির। ডিএসইতে ৫৩৭ কোটি ৪১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৬৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৬৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮১৯ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৭৫ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১০০ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৬১ টির এবং ১৪ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



