পুঁজিবাজারে বিদ্যুৎ খাতের ৫ কোম্পানির ভবিষ্যৎ সংকটে
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থা এখন চরম সংকটের মুখে। সরকারি ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) মেয়াদ শেষ হওয়া, নতুন চুক্তির অনিশ্চয়তা, উৎপাদন বন্ধ এবং সম্পদের অতিমূল্যায়নের কারণে এসব কোম্পানির টিকে থাকা নিয়ে ঘোর সংশয় দেখা দিয়েছে।
সর্বশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ১১টি বিদ্যুৎ কোম্পানির মধ্যে অন্তত ৫টির ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বা ‘গোয়িং কনসার্ন’ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি জানিয়েছে, এই আর্থিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ফাটল ধরাচ্ছে। তাই কোম্পানিগুলোকে সঠিক তথ্য প্রকাশ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় জোর দিতে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সরকারি চুক্তি ছাড়া এই খাতে বিনিয়োগ টেকসই হওয়া কঠিন। আর্থিক অনিয়মের দিক থেকে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বৈদেশিক ঋণের বিপরীতে ৪ হাজার ৭১৫ কোটি টাকার বিনিময়জনিত ক্ষতি মূলধনে যুক্ত করা এবং ২৭ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকার সম্পদের সঠিক পরীক্ষা না চালানোয় প্রকৃত আর্থিক চিত্র আড়াল হয়েছে।
অন্যদিকে ডেসকো ৫৬০ কোটি টাকার পাওনা নিয়ে বিপাকে আছে, যার বড় অংশই আদায় অযোগ্য। ক্রমাগত লোকসানের কারণে ডেসকো গত দুই অর্থবছর কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি। কোম্পানি সচিব জানিয়েছেন, সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হলে সেগুলো দীর্ঘ মেয়াদে সমন্বয় করা হবে।
বারাকা পাওয়ার এবং খুলনা পাওয়ারের অবস্থাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বারাকা পাওয়ার সহযোগী প্রতিষ্ঠানে ১৫৫ কোটি টাকার জামানতহীন ঋণ দিলেও তাদের ফেঞ্চুগঞ্জ কেন্দ্রটি চুক্তি শেষে বন্ধ হয়ে আছে।
খুলনা পাওয়ারের দুটি ইউনিটের পিপিএ শেষ হওয়ায় এবং পাঁচ বছর ধরে লোকসান গুনতে থাকায় এটিও ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে। সম্পদের মূল্যহ্রাসের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কোম্পানিগুলো সঠিক মূল্যায়ন করছে না বলে নিরীক্ষায় উঠে এসেছে।
ডরিন পাওয়ারের তিনটি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ আয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নিরীক্ষকরা। গ্র্যাচুইটি ও দেনা-পাওনার হিসাব নিয়ে অস্পষ্টতা থাকায় কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এখন প্রশ্নের মুখে।



