শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। মুলত আস্থা সংকটে কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না পুঁজিবাজার। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির একের পর এক বাজার নিয়ে হুটহাট সিদ্ধান্তে বাজারের প্রতি আস্থা বাড়ছে না বিনিয়োগকারীদের।

এছাড়া বাজার আজ ভাল তো কাল খারাপ। এ অবস্থার মধ্যে বছরের পর বছর পার করছে বিনিয়োগকারীরা। ফলে দীর্ঘদিন ধৈর্য্য ধরেও বিনিয়োগকারীরা একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার ফিরে পায়নি। যার কারণে আস্থা সংকট কাটছে না। এ অবস্থায় বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুল চ্যালেঞ্জ। কারণ দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুঁজিবাজার সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সরকার।

এরই ধারাবাহিকতায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন করা হয়। তবে পুঁজিবাজারে সংস্কারের উদ্যোগে নতুন আশায় স্বপ্ন বুনতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রায় ১৭ মাস অতিবাহিত হতে চললেও বাজারে স্থিতিশীলতা আসেনি। এমনকি নির্বাচনের তফসিলের ঘোষণার পরও ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না পুঁজিবাজার। মুলত টানা দরপতনে আস্থা সংকটে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না পুঁজিবাজার। তাই যে কোন মূল্যে আস্থা সংকট কাটলেই হু হু করে বাড়বে বলে পুঁজিবাজার বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তবে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর বাজার ভাল হবে এমন প্রত্যাশা ছিলো লাখ লাখ বিনিয়োগকারীদের। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে বিশাল ফারাক। ফলে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগে সাহস পাচ্ছেন না। এছাড়া নতুন বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখী হচ্ছে না। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট দূরীকরণে সুশাসনের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন একাধিক বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া পুঁজিবাজার ইস্যুতে যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিএসইসি ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

জানা গেছে, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৫৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৯৫ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৮ টির, দর কমেছে ২২৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৬ টির। ডিএসইতে ৪৫৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩১ কোটি ১২ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৮৫ কোটি ৮১ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৬৭ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৪২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ৬৫ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৬৩ টির এবং ১৪ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১১ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।