আলমগীর হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে হঠাৎ করে সূচকের বড় দরপতনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ টানা দরপতনের মধ্যে হঠাৎ সূচকের বড় দরপতন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশেষ করে ব্যাংকসহ শীর্ষ মূলধনী কোম্পানির শেয়ারের দরপতনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। যার ফলে টানা দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না পুঁজিবাজার। বাজার আজ ভাল তো কাল খারাপ।

এ অবস্থার মধ্যে বছরের পর বছর পার করছে। কিছুতেই বিনিয়োগকারীরা একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার ফিরে পাচ্ছে না। সবার প্রত্যাশা ছিলো নতুন বছরে বাজার স্বাভাবিক হবে। কারণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেখানে বাজার ভাল হওয়ার কথা সেখানে নতুন করে বড় দরপতনের কারণ কী। যার ফলে এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে বিএসইসির দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ধ্বংস হয়ে যাবে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি দেশের পুঁজিবাজার।

ফলে সামষ্টিক অর্থনীতির তীব্র চাপ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সুশাসনের অভাব সম্মিলিতভাবে বাজারকে অপরিণত ও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর সূচকের সাথে কমেছে ৮০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয় জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে মূল সমস্যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট। কারণ টানা দরপতনে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী বড় ধরনের লোকসানের কারণে বাজারের প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না। এর মধ্যে নতুন করে সূচকের বড় দরপতনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। এ অবস্থায় সংকট কাটাতে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।

এক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে হবে। না হলে দীর্ঘমেয়াদে বাজার টেকসই হওয়া কঠিন। তিনি আরো বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সবার আগে আস্থা সংকট দূর করতে বিএসইসির পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থাৎ কারসাজির মাধ্যমে কেউ তার টাকা হাতিয়ে নিলে বিচার হবে এই মর্মে বিনিয়োগকারীদের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৫৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৩৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৯৯৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৯৬ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯২ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৮ টির, দর কমেছে ৩১৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪১ টির। ডিএসইতে ৪১২ কোটি ২৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪২৯ কোটি ১১ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৭৭ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৫৪ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৪১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯২ টির এবং ২১ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।