নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় পুঁজিবাজারে সক্রিয় হচ্ছেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দীর্ঘ পতনের বৃত্ত থেকে বের হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে দেশের পুঁজিবাজারে। ফলে গত দুই কার্যদিবস সূচক ও লেনদেনের উত্থানে সুদিন ফেরার প্রত্যাশায় সক্রিয় হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। মুলত দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক কাটিয়ে পুঁজিবাজারে লেনদেনের গতি ফিরতে শুরু করছে। ফলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বাজারে যে উত্থান দেখা যাচ্ছে, তা কেবল সূচকের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয় বিনিয়োগকারীদের মনোভাবেও স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কারণ সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে বাজারে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যার ফলে নিস্কিয় থাকা প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বাজারে সক্রিয় হয়েছেন। ফলে প্রতিদিনই অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণ। যার ফলে বাজারের এই উত্থানকে স্বাভাবিক ভাবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এদিকে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের সাথে বেড়েছে টাকার পরিমাণে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তেমনি ডিএসইতে দীর্ঘ চার মাসের মধ্যে সব্বোর্চ লেনদেন হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বাজারের প্রতি আস্থা বাড়তে শুরু করছে বিনিয়োগকারীদের।
কারণ টানা দরপতনে অধিকাংশ শেয়ার বিনিয়োগ উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে বাজারের গতি ইতিবাচক এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে পুঁজিবাজারের গতি আরও বাড়তে পারে এবং লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা মনে করেন। কারণ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বাজার আরও গতিশীল হবে। এ অবস্থায় ভালো মৌল ভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মত দিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৫৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ১৪০ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৭৬ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৪৯ টির, দর কমেছে ৮৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৯ টির। ডিএসইতে ৬৯৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২০১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৯২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩৯১ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৭৮ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১০৩ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৪৭ টির এবং ২৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৩ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



