শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিনিয়োগ স্থবিরতার মধ্য দিয়ে দেশের পুঁজিবাজার কয়েক বছর ধরেই এক ধরনের ‘স্থবির স্রোতে’ আটকে আছে। মুলত ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের অর্থনীতির অন্যান্য খাতে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও ব্যতিক্রম শুধু পুঁজিবাজার। গত ১৭ মাসে পুঁজিবাজারের বৃদ্ধি তো দূরের কথা, উল্টো প্রতিদিনই কমছে মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন।

ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইঙ্গিত মিললেও পুঁজিবাজার চলছে সেই পুরানো উল্টো পথে। যার ফলে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৭ মাস পুঁজিবাজারের কোন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। তবে গত সপ্তাহজুড়ে টানা তিন কার্যদিবস সূচকের ঊর্ধ্বমুখী থাকলে দুই কার্যদিবস সূচকের কিছুটা দরপতন দেখা দিয়েছে। ফলে সপ্তাহজুড়ে তিন কার্যদিবস সূচকের কিছুটা উত্থান হরেও লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে।

তবে গত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে স্পষ্টভাবেই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও পুঁজিবাজারে কেবল সূচক বা লেনদেনের পরিসংখ্যান নয় এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক আস্থার প্রতিফলন। তবে সেই আস্থা চরম সংকটে। মুলত জানুয়ারীর শেষ সপ্তাহে পুঁজিবাজারে যে চিত্র দেখা গেছে, তা কোনো আকস্মিক অস্থিরতা নয় বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ। ফলে পুঁজিবাজারে তিন কার্যদিবস সূচক বাড়লেও আবার তিন কার্যদিবস দরপতন হচ্ছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতের স্বপ্নে আর ভরসা রাখতে পারছেন না। তারা এখন বাস্তব দেখতে চান নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুঁজিবাজার ইস্যুতে কী ভূমিকা রাখে।

এদিকে টানা স্থবিরতা ও বিনিয়োগকারীদের শঙ্কার পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে গত সপ্তাহে ডিএসইতে ৪ হাজার ৩১৭ কোটি টাকার বাজার মূলধন বেড়েছে। এ সময়ে ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেনে বাড়লেও সিএসইতে কমেছে। তবে বিদায়ী সপ্তাহে উভয় পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন বেড়েছে ৯ হাজার ৭২৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন ৪ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা বা দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ২ হাজার ৮৯৭ কোটি ১২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে হয়েছিল ২ হাজার ৮৭৯ কোটি ৮ লাখ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ১৮ কোটি ৪ লাখ টাকা বেড়েছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৫৪ পয়েন্টে।

অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৪ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৯৮৬ পয়েন্টে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৮ টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫২ টির, কমেছে ২০৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩ টির শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১.৪৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৬৯ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ১.৬১ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ৮০ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক ১.৪২ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৯৬৪ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ১.২৩ শতাংশ বেড়ে ৮৮০ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) ১.১৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১ হাজার ৪৬৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৫ হাজার ৪১১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ৪৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৫৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন কমেছে ১৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইতে মোট ২৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৩টির, দর কমেছে ১২৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টির শেয়ার ও ইউনিট দর।