দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন (জিপি) ২০২৫ সালে ব্যবসায়িক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গত এক বছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মূলত সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ভোক্তা পর্যায়ে ব্যয়ের সীমাবদ্ধতার কারণে মুনাফায় এই ধস নেমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গ্রামীণফোনের মোট নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা, যা আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে ছিল ৩ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে প্রায় ৬৭৩ কোটি টাকা।

একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা থেকে কমে ২১ টাকা ৯০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। মুনাফার এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ডের ওপরও। ২০২৪ সালে ৩৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিলেও ২০২৫ সালে কোম্পানিটি সর্বমোট ২১৫ শতাংশ (অন্তর্বর্তীসহ) লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

কোম্পানিটির বার্ষিক রাজস্ব আয়েও সামান্য ভাটা পড়েছে। ২০২৪ সালের ১৫ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকার বিপরীতে গত বছর আয় ৩৯ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮০৬ কোটি টাকায়। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) গ্রামীণফোন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

চতুর্থ প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আয় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৮৬০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বছর শেষে অপারেটরটির মোট গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ কোটি, যার মধ্যে ৪ দশমিক ৮৭ কোটি গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান এই পরিস্থিতিকে ‘পুনরুদ্ধারের বছর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, গত কয়েক প্রান্তিক ধরে সামষ্টিক অর্থনীতির কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে তাদের, তবে বছরের শেষ দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। চতুর্থ প্রান্তিকের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কোম্পানিটি সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

অন্যদিকে গ্রামীণফোনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) অটো মাগনে রিসবাক জানান, ভোক্তাদের ব্যয় করার সক্ষমতা এখনো চাপের মুখে রয়েছে। এ কারণে কোম্পানিটি কঠোরভাবে খরচ নিয়ন্ত্রণের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।

কৌশলগত উদ্যোগ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ফলে প্রতিটি প্রান্তিকে ধাপে ধাপে উন্নতি সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কোম্পানিটি এখন আরও বেশি ভ্যালু-ফোকাসড কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।