আলমগীর হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইঙ্গিত মিলছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। এরই মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও রাজনৈতিক মেরুকরণসহ নানা অনিশ্চয়তার মেঘ কাটিয়ে অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার। সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের পুঁজিবাজারে চাঙাভাব লক্ষ্য করা গেছে।

নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। এর ফলে নতুন করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ছে। মুলত জাতীয় নির্বাচন ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা এই দুই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে পুঁজিবাজারে নতুন করে গতি ফিরতে শুরু করেছে।

এরই ধরাবাহিকতায় সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন ডিএসই ও সিএসইতে আগের কার্যদিবসের চেয়ে টাকার পরিমাণে লেনদেন বেড়েছে। একইসঙ্গে উভয় পুঁজিবাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম বেড়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ সময় পর দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর বাজার পরিস্থিতি আরো স্থিতিশীল হবে এমন আশায় বিনিয়োগকারীরা আবারও পুঁজিবাজারমুখী হচ্ছেন। সূচক বাড়লেও বড় ধরনের দরপতনের আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন তারা। ফলে এই সময়ে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগ করলে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজার। বাড়ছে সাধারণ মূল্যসূচক এবং লেনদেনের পরিমাণ। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তবে সূচকের এই উত্থানের ধারাবাহিকতা দেখতে চান তারা। এছাড়া নির্বাচনী আমেজে সক্রিয় হচ্ছেন বড় বিনিয়োগকারীরা। যার প্রভাব পড়েছে লেনদেন ও সূচকে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বলছে, অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং কাঠামোগত সংস্কারের ফলে আস্থা বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের। ফলে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে হাঁটতে শুরু করছে। আশা করি বাজারের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

জানা গেছে, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন বেড়েছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩৯৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৫৮ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯২ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৮৮ টির, দর কমেছে ৬৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭ টির। ডিএসইতে ৭৯০ কোটি ১৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৪৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৪৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৪১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩৪ পয়েন্টে। সিএসইতে ২০৩ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ১৬৬টির দর বেড়েছে, কমেছে ২৪ টির এবং ১৩ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৯ কোটি ৪০লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।