দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ¦ালানী খাতের কোম্পানি ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের নরসিংদীর ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব স্থায়ী (নন-কারেন্ট) সম্পদ কিনে নিচ্ছে কেপিআই ট্রেডিং। এ লক্ষ্যে কোম্পানিটির পর্ষদ কেপিআই ট্রেডিংয়ের সঙ্গে একটি ভেন্ডরস চুক্তি অনুমোদন করেছে। এক মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিটি।

তথ্যানুসারে, কেপিআই ট্রেডিংয়ের কাছে কেন্দ্রটির জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, রেডিয়েটর ও ভেন্টিলেশন ইউনিট, ইঞ্জিন হল ও অন্যান্য ভবনসহ সব বৈদ্যুতিক কেবল, সুইচগিয়ার, প্যানেল, ব্যাটারি, যন্ত্রপাতি এবং আনুষঙ্গিক সামগ্রী বিক্রি করা হবে। সম্পদগুলোর মোট বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর আগে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর নরসিংদী ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব স্থায়ী (নন-কারেন্ট) সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানিটি।  সিদ্ধান্তের পর ১১ ডিসেম্বর দুটি জাতীয় দৈনিকে দরপত্র আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও প্রাপ্ত প্রস্তাব মূল্যায়নের পর কেপিআই ট্রেডিংকে সফল দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ডরিন পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৫ টাকা ১৫ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ডরিন পাওয়ারের ইপিএস ৩ টাকা ১৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৮১ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫২ টাকা ৪৩ পয়সায়। সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ডরিন পাওয়ারের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৮১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৫৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৫৭ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ডরিন পাওয়ারের ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৫৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯ টাকা ২১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা ৪৭ পয়সায়।

ডরিন পাওয়ারের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল)। ২০০৮ সালের নভেম্বরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয়। ২০১০ সালে ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন নর্দান ও সাউদার্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়।

ডরিন পাওয়ার ২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৮১ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৭৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৮ কোটি ১১ লাখ ১৮ হাজার ৯০১। এর ৬৬ দশমিক ৬১ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৮ দশমিক ৬০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।