স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দীর্ঘ মন্দার পর পুঁজিবাজারে লেনদেনের গতি কিছুটা বাড়লেও সূচক এখনো স্থিতিশীল হয়নি। কারন দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা, মানসম্মত কোম্পানির ঘাটতি এবং বিনিয়োগকারীদের গভীর আস্থাহীনতার মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। এ প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না তা এখন একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ নির্বাচনের পর ৯ কার্যদিবসের মধ্যে ৩ কার্যদিবসে কিছুটা উত্থান হলেও ৬ কার্যদিবসই দরপতন দেখেছে।

বাজারে শেয়ারের দরের এই ওঠানামা কি স্বাভাবিক, নাকি গভীর সংকটের লক্ষণ। তাই বাজার স্থিতিশীল রাখতে হলে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তি করতে হবে। এছাড়া ভালো কোম্পানির শেয়ার বাজারে না এলে বাজার স্বাভাবিক রাখা বর্তমান সরকারের জন্য চালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবো। এছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। এই আগ্রহ ধরে রাখতে দ্রুত ভালো কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আনা জরুরি।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছেন, বিপরীতে বিক্রি করেছেন ১৭৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। অর্থাৎ ১৮ কোটি টাকার বেশি নিট বিনিয়োগ হয়েছে। এর আগে টানা পাঁচ মাস বিদেশিদের বিক্রি কেনার তুলনায় বেশি ছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব কমতে থাকে।

২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর যেখানে তাদের বিও হিসাব ছিল ৫৫ হাজার ৫১২টি, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৪৩ হাজার ১০৬টিতে অর্থাৎ কমেছে ১২ হাজার ৪০৬টি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশিদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ কিছুটা বাড়ছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আইপিও হলো পুঁজিবাজারের ‘নিউ ব্লাড’। দীর্ঘদিন নতুন আইপিও না থাকায় বাজারে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের সংকট তৈরি হয়েছে। ভালো কোম্পানির আইপিও এলে নতুন বিনিয়োগকারী ও নতুন তহবিল বাজারে আসবে।

ডিএসই’র সাবেক পরিচালক মো. শাকিল রিজভীও মনে করেন, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে শক্ত আর্থিক ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়া জরুরি।