আলমগীর হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে টানা চার কার্যদিবস দরপতনের পর গত দু’কার্যদিবস সূচকের কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে পুঁজিবাজার। তবে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ১৮ মাস পেরিয়ে গেলেও পুঁজিবাজার একই অবস্থায় আছে।

এক দিন ইতিবাচক ধারায় চললে পরের দিনই নেতিবাচক হয়ে ওঠে। যার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের দাবী জানিয়েছে বাজার সংশ্লিষ্টরা।  কারণ দীর্ঘ শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে পুঁজিবাজারে বারবার কারসাজির মাধ্যমে নির্বিচার লুটপাটের কারণে বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের যে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা আর ফেরানো যায়নি। এর ফলে কোনো একদিন বাজারে বড় উত্থান হলে পরদিনই মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

বিনিয়োগ অব্যাহত রেখে কেউ আর পুঁজি খোয়ানোর ঝুঁকি নিতে চান না। বাজার-সংশ্লিষ্টরা যদিও এটিকে বাজারের স্বাভাবিক আচরণ বলেই মনে করেন, তবে তারা আস্থার সঙ্কট অস্বীকার করেন না। অর্থনীতিতে আস্থা মানেই উন্নয়নের নিশ্চয়তা। এ বিষয়ে নতুন সরকার কী পদক্ষেপ নেয় তা দেখার অপেক্ষায় আছেন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

কারণ আর্থিক খাতে নতুন সরকারের নেয়া সংস্কারের ওপরও বাজারের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অনিয়মে জর্জরিত পুঁজিবাজারে কার্যকর সংস্কার পরিকল্পনা আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। এছাড়া দীর্ঘ মন্দা আর অনিশ্চয়তার পর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও কিছুটা হলেও আস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে। ফলে আস্থা ফিরলেই হু হু করে বাড়বে সূচক ও লেনদেন বলে মনে তারা মনে করেন।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, তারেক রহমান সরকারের উদ্যোগ স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ ও বিনিয়োগবান্ধব সিদ্ধান্তের কারণে বিনিয়োগকারীদের মনে কিছুটা হলেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এছাড়া বাজার উঠানামার মধ্যে দিয়ে স্থিতিশীলতার পথে হাঁটছে। পুঁজিবাজার একটানা বাড়ছে না তেমনি একটানা দরপতন হচ্ছে না। এটা বাজারের জন্য ইতিবাচক দিক।

জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের সাথে বেড়েছে টাকার পরিমাণে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১১৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৬৯ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৯ টির, দর কমেছে ৯৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৯ টির। ডিএসইতে ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩৮১ কোটি ৮১ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৬৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৩৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬০৬ পয়েন্টে। সিএসইতে ২০৪ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১২০ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৫০ টির এবং ৩৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।