মনির হোসেন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বিপুল পরিমাণ বন্ধকি শেয়ার স্থানান্তর ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই শেয়ার হস্তান্তরে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সরাসরি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সেন্ট্রাল ফার্মার ২ কোটি ১৮ লাখ বন্ধকি শেয়ার আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এর আগে ডিএসই কর্তৃপক্ষকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হলেও তাদের জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

তাই এবার সরাসরি দায়ী কর্মকর্তাদের কাছেই জবাব চাওয়া হয়েছে। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কোম্পানির দুই উদ্যোক্তা-পরিচালক মনসুর আহমেদ ও মোরশেদা আহমেদ। তাদের মধ্যে মনসুর আহমেদের ১ কোটি ৫১ লাখ এবং মোরশেদা আহমেদের ৬৭ লাখ শেয়ার  আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টে স্থানান্তর করা হয়।

বিএসইসির অভিযোগ অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ফার্মা বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানি। এই অবস্থায় উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সেই শর্ত পূরণ হয়নি। পাশাপাশি, ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের আগে কমিশনের পূর্বানুমতি নেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনসুর আহমেদ কমিশনে দেওয়া আবেদনে দাবি করেছেন, ২০১৭ সালে আইডিএলসির সঙ্গে মার্জিন ঋণচুক্তির আওতায় শেয়ারগুলো বন্ধক রাখা হয়েছিল। পরে কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে চলে গেলে শেয়ার হস্তান্তরের ওপর বিধিনিষেধ জারি হয়। তার অভিযোগ, সেই বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ডিএসই ও আইডিএলসি স্থানান্তর অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, ন্যায়সংগত সমাধানের আশায় কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছি। সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত না এলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, কারণ এতে আমি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।

অন্যদিকে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের চিফ অপারেটিং অফিসার আবুল আহসান আহমেদ জানিয়েছেন, আদালতের অনুমতি এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তারা শেয়ার স্থানান্তরের আবেদন করেছেন। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ারও একই দাবি করে বলেন, আদালতের নির্দেশনা মেনেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তবে কমিশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে এবং ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্তও এখানে পূরণ হয়নি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জানুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ফার্মার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার রয়েছে মাত্র ৭.৬৭ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৬.৯৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮৫.৩৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।