দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা:  এক দশক আগে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে বিশাল অঙ্কের অর্থ চুরির ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনা প্রকাশ পেলে চারদিকে শোরগোল পড়ে যায়। চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন করেনি আওয়ামী লীগ সরকার।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংশ্লিষ্টরা আশায় ছিলেন এবার অন্তত এ মামলার তদন্ত হবে, বিচার হবে। অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ওই সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। যে কারণে প্রত্যাশা ছিল আরও বেশি। অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরেরও বেশি সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। তবে এ মামলার তদন্ত হয়নি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে জানতে চাইলে ঢাকার মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির এই মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্ত চলমান। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলাটির দায়িত্বে আছে। মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ আগামী ৯ এপ্রিল।

তিনি বলেন, তদন্ত সংস্থা থেকে প্রতিবেদন পেলেই কেবল আমরা তা আদালতে জমা দিতে পারি। প্রতিবেদন পাইনি, তাই আদালতে দাখিলও করতে পারিনি। প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য আদালত নতুন দিন ধার্য করেছেন। এর মধ্যে প্রতিবেদন পেলে আমরা প্রসিকিউশন বিভাগ থেকে তা আদালতে জমা দিতে পারব।

মামলা সূত্রে জানা যায়, অনলাইন-ব্যবস্থা সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতি থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে চুরির ঘটনার ৩৯ দিন পর মামলা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে রাজধানীর মতিঝিল থানায় এই মামলা করা হয়। শুরু থেকেই মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে আছে সিআইডি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারিও আদালতে জমা দেওয়া হয়নি। ওই দিন আদালত তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য নতুন তারিখ ধার্য করে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে এ নিয়ে ৯৩ বারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছাল।

এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখ ধার্য ছিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। ওই দিনও মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য পরবর্তী নতুন তারিখ আগামী ৯ এপ্রিল ধার্য করেন।