আলমগীর হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড। ১৯৮৩ সালে ব্যাংকটির পথচলা শুরু হয়। এমন এক সময়ে ব্যাংকটির যাত্রা শুরু হয়েছিল যখন বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটে ছিল। সেই সময়ে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে বেসরকারি খাতকে ব্যাংকিং খাতে আসতে উৎসাহিত করেছিল সরকার। পরবর্তীতে ন্যাশনাল ব্যাংক দেশের অন্যতম ব্যাংক হয়ে ওঠে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল, কারণ তখন পর্যন্ত ন্যাশনাল ব্যাংক লাভে ছিল এবং এর তারল্য পরিস্থিতি ও ঋণ আদায়ের পারফরম্যান্স ভালো ছিল।
তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকটি শিকদার পরিবারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। বোর্ডে হস্তক্ষেপ করে কথিত ঋণের নামে বের করে নেয় সাধারণ মানুষের রাখা আমানতের টাকা। অনিয়ম-লুটপাটের কারণে এক সময়ের শক্তিশালী ন্যাশনাল ব্যাংকের নাম চলে আসে দুর্বল ব্যাংকের তালিকায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের ব্যাংক খাতেও পরিবর্তন শুরু হয়। ভেঙে দেয়া হয় ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে চেয়ারম্যান করে নতুন পর্ষদ গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেয়ার পর আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছিলেন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আমাদেরকে সময় ও সাপোর্ট দিতে হবে। সাপোর্ট পেলে ন্যাশনাল ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াবে। পরে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ন্যাশনাল ব্যাংককে জামানত ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা ধার দেওয়া হয়। আবার অন্য ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টি দিয়ে আরো ৯৮৫ কোটি টাকা ধার নিয়ে দেওয়া হয়।
এসব টাকা ধার দেওয়ার মেয়াদ কয়েকবার শেষ হলেও পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। তারপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েক ধাপে সময় বাড়িয়ে দেয়।  এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ব্যাংককে জরুরি তহবিল হিসেবে ১ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঈদের সময় গ্রাহকদের টাকা তোলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১১.৫ শতাংশ সুদে ৯০ দিনের জন্য এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে।
এ ছাড়া চলতি হিসাবে ঘাটতি রেখে লেনদেন করার সুযোগ দেওয়া হয়, যার পরিমাণ দুই হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৯ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা ধার নেয় ব্যাংকটি। এভাবে ১৮ মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো উন্নতি হয়নি ন্যাশনাল ব্যাংকের। বরং দিন দিন আরও অবনতি হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে কমছে আমানত। বেড়েছে খেলাপি ঋণ। এর বিপরীতে প্রভিশন এবং মূলধন ঘাটতিও বেড়েছে।
ফলে ৫০ হাজার টাকার চেক নিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় এসেছিলেন মনির হোসেন। কিন্তু ব্যাংক তাকে টাকা না দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে। তাকে দেওয়ার মতো ওই পরিমাণ নগদ অর্থ নেই বলে জানান শাখা ব্যবস্থাপক। সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকার চেক তারা নগদায়ন করতে পারবেন বলে জানানো হয়। কেবল মনির হোসেন নন, ন্যাশনাল ব্যাংকের আরও অনেক আমানতকারীকে চেক নিয়ে এসে খালি হাতে ফেরত যেতে হচ্ছে।
রাজধানীতে ব্যাংকটির একাধিক শাখায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ব্যাংক নগদ টাকা দিতে পারছে না বলে গ্রাহকদের উপস্থিতি কম। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হলেও কেউ কেউ অল্প টাকা নিয়েই ফেরত যাচ্ছেন।
৩ থেকে ৫ হাজার টাকার বেশি মিলছে না। গ্রাহকদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, প্রয়োজনীয় টাকা উঠাতে পারছেন না। ব্যাংক যে টাকা দিচ্ছে তা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মনির হোসেন বলেন, আমার ৯ লাখ টাকা জমা আছে। সেখান থেকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা উঠাতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু তারা ৩ হাজারের বেশি দিতে পারবে না। আমার দরকার ৫০ হাজার টাকা, আমি ৩ হাজার টাকা দিয়ে কি করব?
সূত্র মতে, ২০০৯ সালের পর সিকদার গ্রুপ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। সে বছর ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা উল্লেখযোগ্য খারাপ হয়। ব্যাংকের বার্ষিক আয় বিবরণীতে দেখা গেছে, নিট সুদ আয় ক্রমাগত কমেছে। ২০২২ ও ২০২৩, এই দুই বছরে ব্যাংকটির ৪ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে উচ্চ শ্রেণিকৃত ঋণকে বিবেচনা করা হয়। একই সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বেড়েছে। ২০২২ সাল শেষে ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট ঋণের ২৫ শতাংশ ছিল খেলাপি।
এছাড়া ২০২২ সালে ব্যাংকটির শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা, যা ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ১৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এছাড়া দুর্বল আর্থিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যাংকটি নানা অনিয়মে জর্জরিত। ২০০৯ সালে ন্যাশনাল ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সিকদার পরিবারের বিরুদ্ধে নিয়ম-নীতি না মেনে ঋণ অনুমোদনসহ নানা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ৭১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে রন হক সিকদার ও তার ভাই রিক সিকদারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলা করেছে।
গত বছর ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ব্যাংকটিকে স্থিতিশীল করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ারকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে রিক হক সিকদার ও রন হক সিকদার এবং তাদের মা মনোয়ারা সিকদারকে ব্যাংকের বোর্ড থেকে সরে যেতে হয়।
এরপর ২০২৪ সালে ৬ মে পারভীন হক সিকদারের পরিচালনায় ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক পারভীন হক সিকদারের পরিচালনায় থাকা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ায় স্পষ্টতই ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের ওপর সিকদার পরিবারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সিকদার পরিবারের হাতে জিম্মি ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ২০ আগস্ট ব্যাংকটির দায়িত্ব নেয় ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদ। তারল্য সংকট দূর করতে আগের নেওয়া ধারের টাকা অপরিশোধিত থাকলেও বর্তমান বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক আরও ৬ হাজার কোটি টাকা ধার দেয়। আবার অন্য ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি দিয়ে আরও ৯৮৫ কোটি টাকা ধার নিয়ে দেওয়া হয়। কয়েকবার সময় পেয়েও ধার শোধ করতে পারেনি ন্যাশনাল ব্যাংক।
তবু অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে চলতি হিসাবে ২ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা ঘাটতি রেখে লেনদেন করার সুযোগ দেওয়া হয়। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক আরও এক হাজার কোটি টাকা ধার দেয়। ঈদ সামনে রেখে গ্রাহকদের টাকার চাহিদা বেশি থাকায় সহায়তার জন্য ১১ দশমকি ৫ শতাংশ সুদে ৯০ দিনের জন্য এই সহায়তা পায় ব্যাংকটি।
সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ৫৭৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, ছেলে বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিয়াত সোবহান এবং পরিচালক ময়নাল হোসাইন চৌধুরীসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আসামির তালিকায় রিক হক শিকদার ও রন হক শিকদারও রয়েছে। দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।
দুদক জানায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ব্যাংকের প্রচলিত নিয়ম লঙ্ঘন করে অপর্যাপ্ত জামানত, ফিক্সড ও ফ্লোটিং চার্জ এবং ফোর্টনাইট স্টক রিপোর্ট ছাড়াই ঋণ অনুমোদন করেন। পরে তা মিলেমিশে আত্মসাৎ করেছেন। এ আত্মসাতের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যে কোনো দিন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক। বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা যাচাই করা হয়নি বলেও মামলায় অভিযোগ আনা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও ব্যাংকটির আর্থিক সূচকে কোনো উন্নতি হয়নি। বরং বিভিন্ন সূচকে অবনতি হয়েছে। অস্বাভাবিক হারে কমেছে আমানত; বেড়েছে খেলাপি ঋণ। এর বিপরীতে প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতিও বেড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, আমানতকারীদের স্বার্থে ব্যাংকের মোট দায়ের ১৭ শতাংশ তারল্য হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। ব্যাংকটির আর্থিক পরিস্থিতি এতটাই অবনতি হয়েছে যে, বিধিবদ্ধ তারল্য সংরক্ষণ করতে পারছে না।  এ কারণে নিয়মিত জরিমানা গুনতে হচ্ছে ব্যাংকটির।
ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, গেল বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে প্রতিষ্ঠানটির আমানতের স্থিতি ছিল ৩৭ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। গত বছরের জুন মাসের শেষে তা কমে ৩২ হাজার ৬১০ কোটিতে নেমেছে। অর্থাৎ গত ৯ মাসে ব্যাংকটি নিট আমানত হারিয়েছে ৫ হাজার ২০ কোটি টাকা। নতুন আমানত আসা অব্যাহত থাকলেও উত্তোলন বাড়ায় তারল্যের চাপ তৈরি হচ্ছে।
ন্যাশনাল ব্যাংকে হু হু করে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একসময়ের স্বনামধন্য বেসরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩২ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৭৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ঋণদাতার আর্থিক বিবরণী অনুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে ব্যাংকটি ১ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে। যা গত বছরের একই সময়ের ১ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা থেকে বেশি। এদিকে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ থেকে নগদ আদায়ের পরিস্থিতিও খারাপ। সিকদার পরিবার নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে ব্যাংকটিকে রসাতলে নিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ট বড় কিছু ব্যবসায়ী বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া, সুদ মওকুফ করানো ও টাকা পাচারের জন্য ন্যাশনাল ব্যাংককে বেছে নিয়েছিলেন।
সূত্র বলছে, ব্যাংকটির বড় অঙ্কের টাকা বিদেশে পাচার হওয়ায় তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফলে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি থাকার কারণে ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতি বেড়েছে বড় অঙ্কের। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৪ হাজার ২৮২ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতির সম্মুখীন ব্যাংকটি। এর অর্থ হলো সম্ভাব্য ঋণ ক্ষতি মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দ করা হয়নি। ব্যাংকের মৌলিক আর্থিক কাঠামোও চাপের মধ্যে রয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ মোট ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা, যেখানে আমানত ছিল ৩৪ হাজার ৯১ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য থেকে জানা যায়, ন্যাশনাল ব্যাংকের বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে রয়েছে মাইশা গ্রুপ, বেক্সিমকো এলপিজি, এফএমসি গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ (বসুন্ধরা ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ডেভেলপমেন্ট, পেপার অ্যান্ড মাল্টি পেপার ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড; ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড; বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড; রেডিয়াম কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড; মানহা প্রিকাস্ট টেকনোলজি লিমিটেড), কর্ণফুলী গ্রুপ (টোটাল কর্ণফুলী অ্যান্ড দেশ টিভি), ওপেক্স গ্রুপ, ব্রডওয়ে অ্যান্ড প্রোক্রিটি, নাসা গ্রুপ, সাদ মুসা গ্রুপ এবং ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড।
ব্যাংক কর্মকর্তারাদের তথ্যমতে, বেশ কয়েকটি বড় গ্রাহকের ঋণ পুনঃতফসিল করা হচ্ছে, বসুন্ধরা ঋণের একটি অংশ পরিশোধ করেছে এবং তহবিল পুনরুদ্ধারের জন্য মাইশা গ্রুপের মালিকানাধীন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বিক্রি করার পরিকল্পনা চলছে। সব মিলে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে ব্যাংক।
ন্যাশনাল ব্যাংকের দুরবস্থা নিয়ে পদক্ষেপ জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকটিকে কীভাবে ভালো করা যায় সেই চেষ্টা চলছে। ফরেনসিক অডিট শুরু হচ্ছে। অডিট রিপোর্ট হাতে পেলে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই মুহূর্তে যেহেতু কয়েকটি ব্যাংক মার্জার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেগুলোর সফলতা কতটুকু, তা দেখে বাকি ব্যাংকগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।