দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতে বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড সভা আগামী ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। তবে কোম্পানিটির গত ৫ বছরের লভ্যাংশ ও মুনাফার হালচাল নিয়ে একটি প্রতিবেদন করা হলো। তবে কোম্পানিটির মুনাফা ২০২১ সাল থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করলেও ২০২৩ সালে বড় চমক দেখিয়েছে।

কোম্পানিটি ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর অর্থবছরের জন্য ৩৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। তবে কোম্পানিটি ২০২০ সালে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাশ ঘোষণা করলে ও ২০২১ সালে ২৫ শতাংশ, ২০২২ সালে ৪৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। কোম্পানিটির ইতিহাসে কোন স্টক লভ্যাংশের রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
এদিকে কোম্পানিটির মুনাফা ধারাবাহিক বাড়লেও ২০২৪ সালে এসে মুনাফায় কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে ২০২০ সালে কোম্পানিটির মুনাফা ছিলো ২ টাকা ৩ পয়সা। ২০২১ সালে কোম্পানিটির মুনাফা ছিলো ৩ টাকা ৩৪ পয়সা। ২০২২ সালে কোম্পানিটির মুনাফা ছিলো ৩ টাকা ৮৩ পয়সা। ২০২৩ সালে কোম্পানিটির মুনাফা ছিলো ৫ টাকা ১২ পয়সা। ২০২৪ সালে কোম্পানিটির মুনাফা ছিলো ৩ টাকা ২৯ পয়সা।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ৩৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১৯ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ ও ১৯ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ২৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ১২ পয়সা।

৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ১ পয়সায়। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ১২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৮৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ১৪ পয়সায়।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক হোলসিম গ্রুপ ও স্পেনভিত্তিক সিমেন্টোস মলিন্স গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০০৩ সালে।

বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৪০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ১৬১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১১৬ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০। এর মধ্যে ৬৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ২২ দশমিক শূন্য ২৬ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, দশমিক ৭৯ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।