ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিবারের সদস্যদের নথি তলব
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)। মুলত ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৫ অক্টোবর শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু হয়। অভিযোগের পরিধি বড় এবং আর্থিক লেনদেনের অঙ্কও উল্লেখযোগ্য। অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এলসির মাধ্যমে জাহাজ ভাঙার নামে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কথাও উঠে এসেছে। পাশাপাশি শেল কোম্পানির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে শওকত আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বারীন, মেয়ে জারা নামরিন এবং ছেলে মো. জারান আলী চৌধুরীর বিভিন্ন নথি চাওয়া হয়েছে। তাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের অনুলিপি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য বিভিন্ন ব্যাংক ও সরকারি দপ্তর থেকে চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, তাদের ব্যক্তিগত নামে বা মালিকানাধীন এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো ঋণ সুবিধা নেওয়া হয়ে থাকলে সেই ঋণের আবেদনপত্র, সংশ্লিষ্ট শাখার প্রস্তাব, অনুমোদনের নথি এবং ঋণ হিসাবের পূর্ণ বিবরণ জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমসংক্রান্ত নথিও তলব করা হয়েছে। দুদকের ভাষ্য, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের জন্য এসব রেকর্ড পর্যালোচনা জরুরি। আগামী ১০ মার্চের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়ে। এর আগে ৩০ জুন তার ও পরিবারের সদস্যদের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), যা বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা। অভিযোগের তদন্ত এখনো চলমান। সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



