দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ঋণ ও বিনিয়োগের প্রকৃত শ্রেণিমান যথাযথভাবে রিপোর্ট না করায় বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই ব্যাংক ওয়ান ব্যাংক পিএলসি ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসিকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি), মনিটরিং অ্যান্ড সুপারভিশন সেকশন থেকে ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি পৃথক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক নিয়ে চিঠিতে বলা হয়, গ্রাহক প্রতিষ্ঠান কেএনবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তিনটি হায়ার-পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক, ১৮টি বাই মুরাবাহা টিআর এবং ২৪টি মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট বিনিয়োগ ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত খেলাপি হিসেবে রিপোর্ট না করে অশ্রেণীকৃত দেখানো হয়।

এ ছাড়া তিনটি নন-ফান্ডেড লেটার অব ক্রেডিট যথাক্রমে পাঁচ বছর ছয় মাস, দুই বছর নয় মাস এবং পাঁচ বছর এক মাস পর টার্মিনেট করা হয়। পুনঃতফসিলকৃত ৪৪টি বিনিয়োগ পুনঃতফসিলের পর মেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে রিপোর্ট না করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এসব অনিয়মকে গুরুতর বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যাংকটিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সাত দিনের মধ্যে মতিঝিল কার্যালয়ে জরিমানার অর্থ জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাব থেকে তা সমন্বয় করে আদায় করা হবে। পাশাপাশি দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে সিআইবিকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই ধরনের অনিয়ম ওয়ান ব্যাংকেও ধরা পড়ে। গ্রাহক প্রতিষ্ঠান টেকনো ড্রাগস লিমিটেডের একটি ডিমান্ড লোন প্রায় ১৪ মাস পর সিআইবি ডাটাবেইজে রিপোর্ট করা হয়। এ ছাড়া দুটি মেয়াদি ঋণ, দুটি পুনঃতফসিলকৃত ঋণ, নয়টি ডিমান্ড লোন ও একটি ওভারড্রাফট ঋণ প্রকৃত শ্রেণিমানে দেখানো হয়নি। প্রায় চার মাস এসব ঋণ অশ্রেণীকৃত হিসেবে রিপোর্ট করা হয়। তথ্য গোপন করে খেলাপি দেখানো না হওয়াকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যাংকটিকেও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আগামী ৫ মার্চের মধ্যে মতিঝিল কার্যালয়ে চেক বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাব থেকে সমন্বয় করে আদায় করা হবে। পাশাপাশি দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ৩১ মার্চের মধ্যে সিআইবিকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।