সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে বাজার মূলধন কমলো ২০ হাজার কোটি টাকা
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর গত সপ্তাহজুড়ে দেশের পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাপক সূচকের দরপতন হয়েছে। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া যে কয়টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, তার পাঁচগুণের বেশি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। এতে ডিএসইর বাজার মূলধন ২০ হাজার কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে। একই সঙ্গে বড় পতন হয়েছে সবগুলো মূল্যসূচকে। পাশাপাশি কমেছে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ।
এর ফলে গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে ৪৩২ পয়েন্ট উধাও হয়ে গেছে । মুলত এ দরপতনের পিছনে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা শুধু তাই নয় পুঁজিবাজারকে অস্থির করে তুলতে ফের কারসাজি চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চক্রটি পুঁজিবাজারের সূচকে প্রভাব ফেলতে পারে (ইনডেক্স মুভার স্ক্রিপ্ট) এমন কোম্পানির শেয়ার চিহ্নিত করে তা কম দামে বিক্রির চেষ্টা করছে।
ফলে হু হু করে শেয়ারের দাম ও সূচক কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন ইস্যুতে পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র ৫৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩২৫টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় স্থান হয়েছে ৫ দশমিক ৫১ গুণ বেশি কোম্পানির। এমন দরপতন হওয়ায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা।
যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বাজার মূলধন বড় অঙ্কে কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচকেরও বড় পতন হয়ছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৩৫৯ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১৩৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৮২.১৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৪০.৮৩ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াসূচক ১৩.৭৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৮.৭১ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৩৩.৮৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১.৫১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ৫২টি কোম্পানির, কমেছে ৩০৮টির এবং অপরিবর্তিত আছে ৩৩টির। এ দিন ডিএসইতে মোট ৪৫৯ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়ে ছিল ৫৮২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।
এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ১১৫.৩৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৯ হাজার ৬০.৫১ পয়েন্টে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৯২.৪৬ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৮২৫.১৩ পয়েন্টে, শরিয়া সূচক ৭.৬৩ পয়েন্ট কমে ৮৮৯.৫৫ পয়েন্টে এবং সিএসই ৩০ সূচক ২৫২.৩০ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ১৯৭.০৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সিএসইতে মোট ১৮১টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ৪১টি কোম্পানির, কমেছে ১২৬টির এবং অপরিবর্তিত আছে ১৪টির। এ দিন সিএসইতে ৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।



