স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো পুঁজিবাজারকে গভীরতর ও বিস্তৃত করা এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে তাদের অংশীজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

আজ রোববার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘পুঁজিবাজারের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, উৎপাদন বা সেবা যে খাতই হোক না কেন, তার মালিকানা জনগণের হওয়া উচিত। অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হলো পুঁজিবাজার। তাই বিভিন্ন বাজারে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে পুঁজিবাজারে জনগণের অংশগ্রহণ এখনো অনেক কম।

ড. তিতুমীর বলেন, সরকার চায় পুঁজিবাজারে জনগণের আস্থা ফিরে আসুক। অতীতে বিভিন্ন সময় কারসাজির কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়েছে। ফলে অনেকেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে ইমার্জিং মার্কেট-এ উন্নীত করাও সরকারের একটি লক্ষ্য। এর মাধ্যমে জনগণ উৎপাদন ও সেবা খাতে মালিকানা ভিত্তিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, পুঁজিবাজারের বিভিন্ন সমস্যা ও দুর্বলতা ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে। বাজারে কারসাজি রয়েছে এবং স্বচ্ছতার ঘাটতিও আছে। বাজারভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অবস্থাও দুর্বল। এসব ক্ষেত্রে সরকার বড় ধরনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিতে চায়।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, আমরা খুব অল্প সময়ের মাঝে অনেকগুলো রুলসের সংশোধন এনেছি। ২০০ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। ১৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করেছি। যার মাঝে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। এর মাঝে দুদকে অভিযোগ পাঠানো হয়েছে ১৬ টি এবং ৪ টি মামলা চলমান।

তিনি বলেন, বড় কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার জন্য আমরা একটি ল’ ড্রাফট করেছি। যা প্রয়োগ করতে সরকার এবং অন্যান্য সহোযোগি সংগঠনগুলোর সহযোগিতা আমাদের লাগবে। বাজার সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রধান উপাদান ভালো কোম্পানি বাজারে আনা। বাংলাদেশে অনেক ভালো কোম্পানি আছে কিন্তু আমাদের বাজারে তালিকাভুক্ত নেই৷