যুদ্ধের মধ্যে পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থানে বেড়েছে লেনদেনেও গতি
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা দরপতন ও যুদ্ধের অস্থিরতা কাটিয়ে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসের ইতিবাচক ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তৃতীয় কার্যদিবসেও দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের বড় উত্থান হলেও আতঙ্ক কাটছে না বিনিয়োগকারীদের। কারণ এর আগেও টানা কয়েক কার্যদিবস উত্থানের পর ফের টানা দরপতন ঘটছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা টানা উত্থান পতন চায় না তারা একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের দাবী জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে পরিবর্তনের হাওয়া বইলেও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ ধারা এখনও থেমে আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন গভর্নর নিয়োগ এবং বীমা খাতের শীর্ষ পদে পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিশেষ করে বর্তমান চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ পুঁজিবাজারকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। যার ফলে প্রতিদিনই বিএসইসি চেয়ারম্যান পদে নতুন প্রার্থী নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নাম শুনছেন, কিন্তু দিনশেষে কোনো নিয়োগ চূড়ান্ত হচ্ছে না। বর্তমান চেয়ারম্যানও এখনও ‘পদত্যাগ না করে’ দায়িত্ব পালন করছেন। এর ফলে বিএসইসি চেয়ারম্যান নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই দরপতন হয়। এতে এক সপ্তাহেই ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৫৯ পয়েন্ট কমে যায়। তবে চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও পুঁজিবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়। এর ফলে একদিনে ডিএসইর প্রধান সূচক ২৩১ পয়েন্ট কমে যায়। তবে দ্বিতীয় কার্যদিবসে সূচকের উত্থানে ১৩২ পয়েন্ট বাড়ে।
এমন পতন-উত্থানের পর সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ার তালিকাও বড় হয়। ফলে সূচকের বড় উত্থান দিয়েই লেনদেন শেষ হয়।
পুঁজিবাজারে বিদ্যমান পরিস্থিতির বিষয়ে ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, যেকোনো দেশের অস্থিরতা অন্য দেশে পড়তে পারে। আর সেটি যদি হয় যুদ্ধাবস্থা তাহলে তো কথাই নেই। কারণ একটি অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হলে, সেটি যেকোনো দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবেই। আর যদি কোনো দেশে এর প্রভাব না পড়ে, তাহলে বুঝতে হবে দেশের অর্থনীতি কোনো অর্থনীতি না। বা দেশটি পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন। তবে আমি সরকারকে সাধুবাদ জানাই, কারণ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেই সরকার চলতি মাসে তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বেড়েছে এবং বাজার চাঙ্গা হয়েছে। তবে এটাও সত্য, বিশ্বের অন্যান্য পুঁজিবাজার থেকে আমাদের পুঁজিবাজার অনেকটা ব্যতিক্রম। এখানে শুধু নেতিবাচক প্রভাব লেগেই থাকে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৪৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৮৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৬২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৩৮ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৯ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৩৯ টির, দর কমেছে ১৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭ টির। ডিএসইতে ৫৯৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৭৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪১৬ কোটি ৪ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৩২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮২০ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৭৩ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩০ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৩২ টির এবং ১১ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



