বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়নে জটিলতা বাড়তি ফি মওকুফের দাবি
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের জীবন ও সাধারণ উভয় ধরনের বিমা কোম্পানিকে নিবন্ধন নবায়ন সম্পন্ন করতে হয়। নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে কোম্পানিগুলো আবেদনও করেছে। তবে বাড়তি ফি আদায়ের উদ্যোগের কারণে এখনো কোনো কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন অনুমোদন দেয়নি বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
ফলে আইনি ব্যাখ্যায় বর্তমানে দেশের সব বিমা কোম্পানি কার্যত নবায়নবিহীন অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা করছে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের জন্য জীবন ও সাধারণ বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স নবায়নের বাড়তি ফি পরিশোধ না করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইডিআরএ-কে অনুরোধ জানিয়েছে বিমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)। বিআইএর প্রথম ভাইস-প্রেসিডেন্ট আদিবা রহমানের সই করা এ সংক্রান্ত চিঠি আইডিআরএ চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বীমা আইনের ১১(২) ধারা অনুযায়ী কোনো বীমা কোম্পানিকে সংশ্লিষ্ট বছরের নিবন্ধন নবায়নের আবেদন আগের বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হয় এবং সেই সঙ্গে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়। একই আইনের ১১(৩) ধারায় উল্লেখ আছে, আবেদন ও নির্ধারিত ফি পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ বিমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন করবে। বিআইএ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী দেশের সব বিমা কোম্পানি ২০২৬ সালের নিবন্ধন নবায়ন ফি গত বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই জমা দিয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিআইএর একটি প্রতিনিধিদল গত ১ মার্চ আইডিআরএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ২০২৬ সালের জন্য বিমা কোম্পানিগুলোর অবশিষ্ট লাইসেন্স নবায়ন ফি যেন পরিশোধ করতে না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে গেজেট সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
বীমা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বীমা আইনে নিবন্ধন সনদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোম্পানিগুলোকে নবায়নের আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে আইডিআরএ’র কাছে জমা দিতে হয়। নিয়ম মেনে দেশের সব জীবন ও সাধারণ বিমা কোম্পানি গত বছরের নভেম্বরেই ২০২৬ সালের নিবন্ধন নবায়নের জন্য আবেদন ও ফি জমা দিয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো কোম্পানিকেই নবায়ন সনদ দেওয়া হয়নি।
বীমা আইন অনুযায়ী বৈধ নিবন্ধন ছাড়া কোনো কোম্পানি নতুন পলিসি ইস্যু, প্রিমিয়াম গ্রহণ বা দাবি নিষ্পত্তির মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। যদিও বাস্তবে দেশের সব বিমা কোম্পানিই স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এক ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান খাত সংশ্লিষ্টরা।
বীমা কোম্পানিগুলো নিবন্ধন নবায়নের আবেদন করার পর নিবন্ধন নবায়ন ফি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় আইডিআরএ। সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান এম আসলামের উদ্যোগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি নিবন্ধন নবায়ন ফি বাড়িয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপর বাড়তি ফি আদায়ের লক্ষ্যে কোম্পানিগুলোর নবায়ন অনুমোদন স্থগিত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১ মার্চ আইডিআরএ থেকে কোম্পানিগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা-২০১২ সংশোধন করে ৪ ফেব্রুয়ারি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ২০২৬ সালের নিবন্ধন নবায়ন সনদ পাওয়ার জন্য সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী অবশিষ্ট ফি পরিশোধ করতে হবে। নতুন গেজেট অনুযায়ী, ২০২৬, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে নিবন্ধন নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি হাজার টাকা গ্রস প্রিমিয়াম আয়ের বিপরীতে ২ টাকা ৫০ পয়সা।
অর্থাৎ কোনো কোম্পানি এক কোটি টাকা প্রিমিয়াম আয় করলে পরবর্তী বছরের নিবন্ধন নবায়নের জন্য তাকে ২৫ হাজার টাকা ফি দিতে হবে। পরে ২০২৯, ২০৩০ ও ২০৩১ সালে এই হার বাড়িয়ে প্রতি হাজারে ৪ টাকা এবং ২০৩২ সাল ও তার পরবর্তী সময়ের জন্য ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এই হার ছিল প্রতি হাজারে ১ টাকা।
এতে করে ধাপে ধাপে নিবন্ধন নবায়ন ফি বর্তমান প্রায় ০.১ শতাংশ থেকে বেড়ে চূড়ান্ত ধাপে ০.৫ শতাংশে উন্নীত হবে। অর্থাৎ প্রতি হাজারে অতিরিক্ত ৪ টাকা বা ০.৪ শতাংশ বাড়তি ব্যয় বহন করতে হবে বিমা কোম্পানিগুলোকে।



