পুঁজিবাজারে নারী বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণে ভাটা
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে নারী বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণে স্পষ্ট ভাটা পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে চলমান মন্দা ও আস্থার সংকটের কারণে অনেক নারী বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ গুটিয়ে নিয়েছেন। এর প্রতিফলন দেখা গেছে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট বন্ধের পরিসংখ্যানে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি নারী বিনিয়োগকারী তাদের বিও অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন। এমন এক সময়ে এই চিত্র সামনে এলো, যখন ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও শেয়ারবাজারে তাদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত দেশের পুঁজিবাজারে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট ছিল ৪ লাখ ৪ হাজার ৩১১টি। তবে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার ৭২৪টিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ১৩ হাজার ৫৪৭ জন নারী বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়েছেন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে নারী পুরুষ নির্বিশেষে সব ধরনের বিনিয়োগকারীর সংখ্যাই কমেছে। তবে সংখ্যার বিচারে পুরুষ বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেশি কমলেও, হারের দিক থেকে নারী বিনিয়োগকারীদের প্রস্থানের হার তুলনামূলক বেশি।
সিডিবিএলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ মার্চ দেশের শেয়ারবাজারে মোট বিও অ্যাকাউন্ট ছিল ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ১৫১টি। এক বছর পর ২০২৬ সালের ৮ মার্চ তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৯টিতে। অর্থাৎ এক বছরে মোট অ্যাকাউন্ট কমেছে ৩৫ হাজার ৩৭২টি। এর মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট ১২ লাখ ৬৫ হাজার ২০৮টি থেকে কমে হয়েছে ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৫৪টি। অর্থাৎ এক বছরে ২২ হাজার ১৫৪ জন পুরুষ বিনিয়োগকারী তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছেন।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা না থাকায় অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বাজার থেকে সরে যাচ্ছেন। এর প্রভাব নারী বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।



