আলমগীর হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের আর্থিক খাতের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্ব। এই সংস্থার চেয়ারম্যান পদেও কি পরিবর্তন আসছে সেদিকে নজর বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের। কারণ পুনর্গঠিত কমিশনে বর্তমান চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের স্থান পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন এখন বিদায়ের প্রহর গুনছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

কারণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার আর্থিক খাতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নিয়োগ দিয়েছিল। সেই ঝটকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে। একই সময়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে আর্থিক খাতে পুনর্বিন্যাস শুরু হয়েছে। মনসুরকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে বসানো হয়েছে মো. মোস্তাকুর রহমানকে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পুঁজিবাজারকে ঢেলে সাজানো এবং বাজারকে গতিশীল ও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার দিয়ে সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার দলের দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন। ফলে নতুন করে গুছিয়ে কাজ শুরু করতে বিএসইসির শীর্ষ পদেও কি বদল আনছে সরকার? তাই যদি হয়, তাহলে কে হচ্ছেন নতুন চেয়ারম্যান? এই আলোচনা এখন পুঁজিবাজার ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মুখে মুখে।

এ বিষয়ে সম্প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজেদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রয়োজনে আরো পরিবর্তন হবে। পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে শিগরিই বড় পরিবর্তন আসছে।
এদিকে বিএসইসি সম্ভাব্য চেয়ারম্যান হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে।

এদের কেউ কেউ নিজেরাও বেশ দৌঁড়ঝাপ ও তদ্বির করে যাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে তিনজন রেসে এগিয়ে আছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এরা হচ্ছেন: সাবেক সচিব ফরিদুল ইসলাম, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) এর সভাপতি ও ব্র্যাক ইপিএলের পরিচালক সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক সভাপতি ও লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাছির উদ্দীন চৌধুরী।

সাধারণত প্রতিবারই সরকার পরিবর্তনের পর আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। সব সরকারই এসব পদে তাদের অনুগত ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের পদায়ন করতে চায়। এ সরকারও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা পদ আকঁড়ে আছেন। সরকার নিজে থেকে সরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তারা পদত্যাগ করবেন না বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইডিআর এর মত বিএসইসির শীর্ষ পদেও যে পরিবর্তন আসবে, সেটি অবধারিত। কারণ সরকার যোগ্যতা ও দক্ষতার পাশাপাশি তার রাজনৈতিক দর্শন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে তার সঙ্গে ফাইন টিউনিং হয় এমন ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ন্ত্রক পদে বসাতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। তবে কবে নাগাদ বিএসইসির কমিশনে পরিবর্তন আসবে এবং সম্ভাব্য কে নিয়োগ পেতে পারেন সে বিষয়ে কিছু বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।