স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বড় ধরনের সংস্কার ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আগামী তিন বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারের আকার বা মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বর্তমানের ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে জিডিপির অন্তত ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। এই লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে বিএসইসি ও এডিবির প্রতিনিধিদলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় পুঁজিবাজারের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী ‘ক্যাপিটাল মার্কেট ডায়াগনস্টিক’ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, দেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধন জিডিপির মাত্র ১০ শতাংশের আশেপাশে রয়েছে, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই হারকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে বৃহৎ ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর সংস্কার এবং অন্যান্য নীতিগত পরিবর্তন আনার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বড় ঋণগ্রহীতাদের সরাসরি ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করতে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাজারের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিএসইসির কার্যক্রমে পূর্ণ অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে কমিশন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের নতুন মাধ্যম হিসেবে বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করতে একটি ‘বন্ড গ্যারান্টি ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এডিবি এই ফান্ড গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং এর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে বিএসইসির কমিশনার ফারজানা লালারুখ, পরিচালক মো. আবুল কালাম এবং এডিবির সিনিয়র ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর স্পেশালিস্ট মানোহারি গুনাবর্ধনেসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় এডিবি প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের এবং বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে সেগুলোর সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই যৌথ উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ পুঁজিবাজার গড়ে উঠবে।