ইউনূসের মব বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন আসিফ নজরুল: আনিস আলমগীর
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: অধ্যাপক আসিফ নজরুল বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের মব বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে আসিফ নজরুল হতাশ করেছেন বলেও অভিযোগ তার। আজ সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন আনিস আলমগীর। পোস্টে আসিফ নজরুলের সঙ্গে ফেসবুক বন্ধুত্বের ১৪ বছরের কার্ড শেয়ার করেছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে আনিস আলমগীর বলেন, ‘ফেসবুক মেমোরি দেখাচ্ছে, আসিফ নজরুলের সঙ্গে আমার ফেসবুক বন্ধুত্বের ১৪ বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। বাস্তবে আমাদের পরিচয় আশির দশকের শেষ দিকে, কিংবা নব্বইয়ের শুরুর দিক থেকে। তার লেখালেখি আমি পছন্দ করতাম এবং প্রকাশ্যেই প্রশংসা করেছি।
তিনি বলেন, ড. ইউনূসের ‘ডাস্টবিন’ সরকারের উপদেষ্টা হওয়ার পর তার (আসিফ নজরুল) চেহারা পুরোপুরি বদলে গেছে। যে মানুষটি একসময় ইনক্লুসিভ সমাজ, মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতেন, যার সঙ্গে বহু বিষয়ে আমার চিন্তার মিল ছিল এবং মতভেদের জায়গা খুবই সীমিত ছিল। তিনি চরমভাবে হতাশ করেছেন।
কথা বলার কারণে জেলে নেওয়ার পর আসিফ নজরুলের নীরবতা আরো বেশি চোখে পড়েছে জানিয়ে আনিস আলমগীর বলেন, ‘তার সময়ে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ ভুয়া মামলায় কারাগারে গেছে, রাজনৈতিক বিশ্বাস আওয়ামী লীগ এ জন্য অমানবিক নির্যাতনের শিকার। তারা জামিন পেলে বিরোধিতা করেছে। অথচ এখন তিনি সেই দায় অস্বীকার করছেন। যেভাবে ড. ইউনূস এবং তার গোলামরা জাতিকে হতাশ করেছেন, আসিফ নজরুলও তেমনি ব্যক্তিগতভাবে তাকে হতাশ করেছেন’ বলে জানিয়েছেন আনিস আলমগীর।
তিনি বলেন, ইউনূসের মব বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন আসিফ নজরুল। এই দেশ এবং সমাজকে ঘৃণার সংস্কৃতিতে ভরিয়ে দেওয়ার জন্য বিশ্ব বাটপার ইউনূসের পরে আসিফ নজরুলের নাম লেখা থাকবে। আনিস আলমগীর ফেসবুক পোস্টে আরো লিখেছেন, ‘গত রোববার বিবিসি বাংলায় তার একটি সাক্ষাৎকার দেখলাম।
ইউনূসের ১৮ মাসে তার যে চরিত্র দেখেছি, সেটারই ধারাবাহিকতা সেখানে আছে। মনে হয়েছে, মিথ্যা বলার কৌশল তিনি আরো শাণিত করেছেন। দুঃখজনকভাবে, সাক্ষাৎকারগ্রহণকারী কাদির কল্লোলও আমাকে হতাশ করেছেন, তার ইমেজ নষ্ট করেছে।
কারণ সাক্ষাৎকারে আসিফ নজরুলকে যেন নির্বিঘ্নে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তার বক্তব্যের বিপরীতে কার্যকর কোনো পাল্টা প্রশ্ন ছিল না। আসিফ নজরুলের মতো মানুষদের ক্ষেত্রে কথার চেয়ে কাজই শেষ পর্যন্ত প্রকৃত চরিত্রের পরিচয় দেয় বলে মন্তব্য আনিস আলমগীরের।



