টানা দরপতনের পর আস্থা ফিরছে পুঁজিবাজারে, বাজেটের দিকে তাকিয়ে বিনিয়োগকারীরা
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা দরপতনের পর পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়। ফলে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা পাঁচ কার্যদিবস ধরে সূচক বৃদ্ধির মাধ্যমে সবুজ ধারাতেই ঈদের বিরতিতে গেল পুঁজিবাজার।
ফলে বাজারে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় মূল্য সূচকও বেড়েছে। তবে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।
এদিকে নানামুখী সংস্কারের মাধ্যমে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা পতনের লাগাম টানার চেষ্টা করলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বাস্তবে তা কোনো কাজেই আসছে না। ফলে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগে উপস্থাপনের দাবিও বাজার সংশ্লিষ্টদের। এছাড়া বাজেটের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রী উদ্যোগ নেয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা বিশ্বাস করেন, সরকার বাজার ভালো করতে আন্তরিক। তারই প্রতিফলন এখন দেখা যাচ্ছে। ‘ভালো’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করতে হবে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। সেই সঙ্গে কমেছে বিক্রির চাপ। ফলে ঈদের আগে বাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলেছে। ঈদের ছুটির পরও এ ধারা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পুঁজিবাজারে নতুন গতি ফিরতে পারে।
ডিএসইর এক সদস্য বলেন, দীর্ঘ মন্দার কারণে বাজার যে অবস্থায় নেমেছে, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোই স্বাভাবিক। প্রতি বছরেই ঈদের আগে কয়েকদিন বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকে। এবার সেই প্রবণতা দেখা গেছে। ঈদের পর এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাজারে গতি ফিরে আসবে।
বর্তমান সরকার পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দিচ্ছে, অর্থমন্ত্রীর বিভিন্ন বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এখন দেখার বিষয় আগামী বাজেটে অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজারের জন্য কি রাখেন। বাজেটে পুঁজিবাজারের ভালো কিছু থাকলে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে। একইভাবে খারাপ কিছু থাকলে বাজারের সংকট আরও বাড়বে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩৩৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮২ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক .৫৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৩০ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৯ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬১ টির, দর কমেছে ১৩৬ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৯২ টির। ডিএসইতে ৭৭৮কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১২৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা কম। আগের কার্যদিবস লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৯০২ কোটি ১৫ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ৭০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯০৯ পয়েন্টে। সিএসইতে হাত বদল হওয়া ১৮৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৯৬টির, কমেছে ৭১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির দর। সিএসইতে ২১ কোটি ৮০লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



