ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ারে ভর করে ঘুরে দাঁড়ালো পুঁজিবাজার, বেড়েছে লেনদেন
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সুদিনের সুবাতাস বইছে দেশের পুঁজিবাজারে। ফলে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। মুলত গত ১০ কার্যদিবসে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। যার ফলে লোকসান কাটিয়ে আবারও মুনাফার প্রত্যাশায় সক্রিয় হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
মুলত পুঁজিবাজারের এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে বীমা খাতের কোম্পানিগুলো। অধিকাংশ বীমা কোম্পানি দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখানো কারণে অন্যান্য খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এদিন বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন। এর মাধ্যমে শেষ ১১ কার্যদিবসের মধ্যে ১০ কার্যদিবসেই পুঁজিবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিললো। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর আগে টানা নয় কার্যদিবস পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে সূচকের কিছুটা দরপতন হয়। সেই সঙ্গে কমে লেনদেনের পরিমাণ। এ পরিস্থিতিতে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে।
লেনদেনের সময় গাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বিমা কোম্পানির দাপটও বাড়তে থাকে। দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বিমা কোম্পানিগুলোর দাপট দেখানো অন্যান্য খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বাজারে ক্রেতারা সক্রিয় হওয়ায় অন্যান্য খাতেরও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়ে যায়। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১১১ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৮০ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৭ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৪৬ টির, দর কমেছে ১০০ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫১ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৭২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৩৮ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ১৪০ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭০ টির এবং ২৮ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



