পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ উপযুক্ত সময় পিই রেশিও ৮.৫৭
মোবারক হোসেন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরণের নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করে পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজার যেমন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধন সংগ্রহের প্রধান উৎস, তেমনি সাধারণ মানুষের জন্য একটি বিকল্প বিনিয়োগের স্থান। তবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বারবার আস্থার সংকট, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নীতিনির্ধারকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ফলে দেশের অর্থনীতিতে তেমন কোন অবদান রাখতে পারছে না পুঁজিবাজার। তাছাড়া দুই মাসে টানা দরপতনে ডিএসই ৬৬৭ পয়েন্ট সূচকের দরপতনে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত দরপতন হয়েছে। ফলে দুই মাসের বেশি সময় ধরে থেমে থেমে পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক পতনের পরিপ্রেক্ষিতে, এখন তা হতাশ বিনিয়োগকারীদের জন্য লোকসান কমানোর এবং নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দেওয়ার ইঙ্গিতও দিচ্ছে।
শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার ফলে বাজারটি এখন অবমূল্যায়িত হয়ে পড়েছে এবং এর ফলে পুঁজিবাজারে একটি অদ্ভুত সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বাজারের মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ৮.৫৭ এ অবস্থান করছে, যা একটি ঐতিহাসিক সংকেত দিচ্ছে। এই পতনশীল পরিসংখ্যান নির্দেশ করে যে, পুঁজিবাজারে ঝুঁকি এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, ফলে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় এবং গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।
এর মানে হচ্ছে, এটি এমন একটি সময়, যখন পুঁজিবাজারের দুর্বলতা আসলে তার শক্তির মধ্যে পরিণত হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন কম দামে উচ্চ সম্ভাবনা খুঁজে পাচ্ছেন। যেখানে সুচিন্তিত বিনিয়োগ দীর্ঘ মেয়াদে লোভনীয় মুনাফা নিশ্চিত করতে পারে। একটি কোম্পানির পিই রেশিও নির্ধারিত হয় তার শেয়ারের বাজারমূল্য এবং শেয়ারপ্রতি আয়ের (ইপিএস) ভিত্তিতে।
সপ্তাহজুড়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ৩ শতাংশ কমেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৯.৬১ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করছে ৮.৫৭ পয়েন্টে।
অর্থ্যাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.২৬ পয়েন্ট বা ৩ শতাংশ। এর মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ডের পিই রেশিও ৩.১২, বিদ্যুৎ ও জ¦ালানী খাতের পিই রেশিও ৪.৫৪, ব্যাংক খাতের পিই রেশিও ৫.৮৪, প্রকৌশল খাতের পিই রেশিও ৯.০৭, ওষুধ ও রসায়ন খাতের খাতের পিই রেশিও ৯.২২, আর্থিক খাতের পিই রেশিও ৯.২৪,
বস্ত্র খাতের পিই রেশিও ৯.৮২, সেবা ও আবাসন খাতের পিই রেশিও ১১.০৮, বীমা খাতের পিই রেশিও ১১.৫৬, সিমেন্ট খাতের পিই রেশিও ১২.০৬, ভ্রমন ও আবাসন খাতের পিই রেশিও ১২.৯৬, টেলিযোগাযোগ খাতের পিই রেশিও ১৩.৩৪, আইটি খাতের পিই রেশিও ১৩.৯৭,
বিবিধ খাতের পিই রেশিও ১৪.৯৩, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের পিই রেশিও ১৬.১৬, জুট খাতের পিই রেশিও ২৬.৭২, কাগজ ও প্রকাশনা খাতের পিই রেশিও ২৭.৬৮, ট্যানারী খাতের পিই রেশিও ৫১.৫৯, সিমেন্ট খাতের পিই রেশিও ৭৫.৮৭।



