শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে চলমান সূচক ও শেয়ারের দরপতন আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে, এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা তাদের পোর্টফোলিওতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে এক কার্যদিবস উত্থানের পরই সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে।

মুলত টানা দরপতনের সঙ্গে লেনদেন খরা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমছে। ফলে টানা দরপতনের বৃত্তে আটকে গেছে দেশের পুঁজিবাজার। ফলে বলতে গেলে পুঁজিবাজারটি একেবারেই সরকারের মনোযোগের বাইরে। দীর্ঘদিনের জঞ্জাল সরিয়ে একটি স্থিতিশীল ও আস্থার বাজারে পরিণত করার আন্তরিক প্রচেষ্টা অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দেখা যায়নি। এছাড়া বিনিয়োগকারীরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের হস্তক্ষোপ কামনা করছেন।

তাছাড়া টানা দরপতনে প্রতিদিনই লেনদেন ও সূচক কমেছে। ফলে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চিত পুঁজিবাজারে সূচকের ‘কফিনে আরেকটি পেড়েক’ বসল। এদিন সূচকের বড় পতনে ৪৯ পয়েন্ট উধাও হয়ে গেছে। টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীরা ফোর্স সেল আতঙ্কে ভুগছেন। এমনকি কিছু কিছু ব্রোকারেজ হাউজ ফোর্স সেল শুরু করছেন।

তবে ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের অর্থনীতির অন্যান্য খাতে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও ব্যতিক্রম শুধু পুঁজিবাজার। প্রশ্ন উঠছে সব খাতে সংস্কারের পর ঘুরে দাঁড়ালেও পুঁজিবাজার কেন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে না এ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। এছাড়া গত ১৫ মাসে পুঁজিবাজারের বৃদ্ধি তো দূরের কথা, উল্টো প্রতিদিনই কমছে মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন।

ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইঙ্গিত মিললেও পুঁজিবাজার চলছে সেই পুরানো উল্টো পথে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৫ মাস পুঁজিবাজারের কোন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বারবার আস্থার সংকট, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নীতিনির্ধারকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া দেশের অর্থনীতিতে তেমন কোন অবদান রাখতে পারছে না পুঁজিবাজার।

তেমনি বিএসইসির অদক্ষ্য ও অযোগ্য কমিশনের কারণে বেহাল দশা দেশের পুঁজিবাজারের। সার্বিকভাবে বর্তমানে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগে ভাটা চলছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হলেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফা কমছে। নতুন করে কোনো কোম্পানির তালিকাভুক্তি হচ্ছে না। তেমনি পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণও কমছে। সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজার নিয়ে আশাবাদী হতে পারছেন না।

জানা গেছে, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচক কমলেও বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৭৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৪৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯১৭ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৭ টির, দর কমেছে ৩০৬ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮ টির। ডিএসইতে ৪৯২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৫৩ কোটি ১০ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৩৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৭৬ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ৪৯ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১৯ টির এবং ১৪ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৫ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।