স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে এখন মার্জিন ঋণের বিপরীতে অনাদায়ী ক্ষতি বা নেগেটিভ ইক্যুইটি দিন দিন বাড়ছে। গত আগস্ট পর্যন্ত এর পরিমাণ মোট ১০ হাজার ১০৯ কোটি টাকা। এই বিপুল ক্ষতি ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যভুক্ত বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের। যাদের প্রভিশনিং ঘাটতি ২ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর ফলে আর্থিক ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানান খাত সংশ্লিষ্টরা।

তবেবিনিয়োগকারীদের দেওয়া মার্জিন ঋণের বিপরীতে অনাদায়ী ক্ষতি (নেগেটিভ ইক্যুইটি) দেশের পুঁজিবাজারের অন্যতম বড় সমস্যা। এই সমস্যা সমন্বয়ে সম্প্রতি প্রত্যেকটি ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কাছে পৃথক পরিকল্পনা চেয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধসের পরে শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে কমতে থাকে। এতে ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর দেওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণ আটকে যায়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৫ বছরের পুঞ্জিভূত এই সমস্যা এখন বোঝায় পরিণত হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মার্জিন হিসাবে অনাদায়কৃত ক্ষতি বাড়তে থাকে।

২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিএসইসির প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬১টি বিও অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে ১৭ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সুদ ও আসলসহ মোট অনাদায়ী ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১০৯ কোটি টাকা।

ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের অনুরোধ ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো সব আমরা শেষ করে দিতে চাচ্ছি আর সেভাবেই পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। তারা যাতে বিবেচনা করে, আগামী ২–৩ মাসের মধ্যে অনুমোদন দেয়। তারা কেস বাই কেস দেখেছে। ২০৩০ সালের মধ্যেই আশা করি আমরা এসব কিছু থেকে মুক্ত হবো।

লোকসানের কারণে প্রভিশনিং ঘাটতিতে পড়েছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট ৩১১টি প্রতিষ্ঠান। মোট ৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকার আনরিয়েলাইজড প্রভিশনিংয়ের বিপরীতে প্রায় ১ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা প্রভিশনিং করতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। শেয়ারবাজারে ক্ষতির এই ধারাবাহিকতা থেকে বের হতে চায় ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো।

ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাউসার আল মামুন বলেন, আমরা যদি এখান থেকে বের না হই, তাহলে এই বাজারকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারব না। এই মার্জিন ইক্যুইটির কারণে কিন্তু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাথে প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রভিশন সংরক্ষণের সময় বাড়িয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।