পুঁজিবাজারে টানা দরপতনে নিশ্চুপ বিএসইসি, ডিএসই নিস্ক্রিয়
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও আতঙ্ক ভর করেছে। টানা পতনে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার পয়েন্ট ভেঙ্গে ৪৯১৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ফলে টানা দরপতনে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ক্রেতা না থাকায় অনেক কোম্পানির শেয়ারের সর্বোচ্চ দরপতন হয়।
ফলে গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে টানা দরপতন হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজারের। টানা দরপতনের মধ্যে পড়ে প্রতিদিন বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। লোকসান কাটিয়ে ওঠার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। ফলে দিন যতই যাচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হারানোর আতঙ্ক তত বাড়ছে।
আতঙ্কে অনেকেই দিনের সর্বনিম্ন দামে শেয়ার বিক্রির চেষ্টা করছেন। ফলে মাত্রাতিরিক্ত বিক্রির চাপে বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা যাচ্ছে। এতে সূচকের যেমন পতন হচ্ছে, তেমনি কমে আসছে লেনদেনের গতি। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারের ভবিষ্যত কী তা নিয়ে শঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা।
তাছাড়া পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রাখার দায়িত্ব কার এ প্রশ্ন খোদ বিনিয়োগকারীদের। তবে সাম্প্রতিক পুঁজিবাজার টানা দরপতন হলেও বিএসইসি নিশ্চুপ রয়েছেন। এছাড়া ডিএসইর ভুমিকা নিস্কিয় বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া সিএসইতে থেকেও নেই। ফলে টানা দরপতনে অভিবাভক শুন্য হয়ে পড়েছে পুঁজিবাজারের। এ অবস্থায় পুঁজি কমতে কমতে অধিকাংশ বিনিয়োগকারীদের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ পুঁজি হারিয়েছে। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি শুন্য হয়ে যাবে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত তিন মাসের লাগাতার পতনে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী সর্বশান্ত হয়ে পুঁজিবাজার ছেড়েছেন। পতনের ছোবল অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই নিঃস্ব হওয়ার বিনিয়োগকারীদের তালিকা বড় হচ্ছে। কিন্তু পতনের তান্ডব থামার কোনো লক্ষণ নেই। তাদেরও একই প্রশ্ন, তাহলে কী পুঁজিবাজার শেষ হয়ে যাবে?
জানা গেছে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৬৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯১৪ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ২৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৯৫ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৮ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৮ টির, দর কমেছে ৩২২ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮ টির। ডিএসইতে ৪১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৭৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৯২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৫২ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৪০ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩১ টির এবং ১১ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



