আলমগীর হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা দরপতনের বৃত্তেই আটকে রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবস সূচকের বড় দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে টানা দরপতনে পুঁজিবাজারের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টরা। যার ফলে চরম ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে পুঁজিবাজারে। গত সপ্তাহে প্রতিদিন ক্রেতাশূন্য অবস্থায় পড়ে ছিলো অর্ধশতাধিক কোম্পানির শেয়ার। ফলে বাজার টানা দরপতন হলেও বাজার নিয়ে মুখ খুলছে না বিএসইসি ও ডিএসইসি।

দেখে মনে হচ্ছে পুঁজিবাজারে দরপতনের মাতম চলছে। পুঁজিবাজারের এমন করুণ দশা দেখে রাস্তার নেমে বিনিয়োগকারীরা প্রতিবাদ জানালেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না। ফলে পুঁজিবাজারে চরম আস্থার সংকটে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। বছরের শেষ চার মাস পুরোটাই উল্টো পথে দেশের পুঁজিবাজার। আস্থা সংকটের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ের বড় বিনিয়োগকারীরা সাইডলাইনে অবস্থান করছেন।

ফলে প্রতিনিয়তই কমছে লেনদেন ও শেয়ারের দাম। ফলে প্রশ্ন উঠছে উচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশে পুঁজিবাজার হাঁটছে উল্টো পথে। মুলত সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে সৃষ্টি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা। টানা দরপতনে পুঁজি হারিয়ে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী ছেড়েছেন পুঁজিবাজার।

ফলে বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন কী হচ্ছে পুঁজিবাজারে। বর্তমান পুঁজিবাজার ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের দরপতনকে হার মানিয়েছে। অন্তবর্তী সরকারের গত ১৫ মাসে যে ভাবে বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারিয়েছে তা ২০১০ সালেও মানুষ এত ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ফলে দিন দিন পুঁজি নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। বর্তমান পুঁজিবাজারের যে অবস্থা চলছে তাতে ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বলে অভিযোগ করছেন একাধিক বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন হয়েছে। সপ্তাহ জুড়ে সূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে কমেছে বাজার মূলধন ও টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ। যার ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বাজার মূলধন প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা কমে গেছে। সেই সঙ্গে কমেছে মূল্যসূচক। পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। এ সময়ে ডিএসই ও সিএসইতে বাজার মূলধন কমেছে ৮ হাজার ৯৩০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৯২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে বাজার মূলধন ৭ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা টাকা বা ১ দশমিক ০৭ শতাংশ কমেছে। সপ্তাহটিতে টাকার পরিমাণে লেনদেন ২ হাজার ৬২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৭ কোটি ৩০ লাখ টাকায়। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৬২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

সপ্তাহটিতে ডিএসইর প্রধান সূচক ১৪১পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৮৬ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৩২ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৪২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ২৪ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৮৯১ পয়েন্টে। সপ্তাহটিতে ডিএসইতে ৩৮২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৫ টির , দর কমেছে ৩২৫ টির এবং ১৩ টির শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৯০.১০ পয়েন্ট বা ২.০৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৭৪৭ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ২.০২ শতাংশ কমে ১২ হাজার ১৭৬ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক ১.৯৫ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৪৭৩ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ১.৮৭ শতাংশ কমে ৮৬৫ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) শূন্য শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৮৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ১ হাজার ৫৫৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ৫৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের

সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১১০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৫৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইতে মোট ২৮৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ২০০টির, দর কমেছে ৬৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টির শেয়ার ও ইউনিট দর।