আলমগীর হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে টানা দরপতনে বাজার নিয়ে দু:চিন্তায় পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া লেনদেন খরা কাটছে না পুঁজিবাজারে। লেনদেন বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও টাকার পরিমাণ কমছে।

গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবস দরপতন হচ্ছে। এমন অবস্থা গত তিন মাসজুড়েই পুঁজিবাজারে। ফলে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মাঝে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আস্থা ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। তেমনি লেনদেন কমে ২০০ কোটি টাকার ঘরে চলে এসেছে। এতে ডিএসইতে গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে।

এদিকে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই টানা দরপতনে পুঁজিবাজার। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) মূল্যসূচক ৫ হাজারের নিচে নেমে গেছে। তবু সরকার অযোগ্য এই চেয়ারম্যানকে অপসারণ না করায় বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়েছেন। নিজেই পদত্যাগ না করে নির্লজ্জভাবে চেয়ার আঁকড়ে ধরে রেখেছে রাশেদ মাকসুদ। ফলে পুঁজিবাজার প্রতিনিয়ত ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে, অতল গহ্বরের দিকে এগোচ্ছে।

পুঁজিবাজারে যে কোনো পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা শুধুমাত্র কমিশন পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্ভব এটা পূর্বের প্রমাণ স্পষ্ট। গুজবের ভিত্তিতে আশাবাদী হয়ে ওঠা বিনিয়োগকারীরা প্রত্যেকবার প্রতারিত হয়েছেন। বাজারে আশার আলো দেখতে পেলে শেয়ার দর সাময়িক বেড়ে, বাস্তব পদক্ষেপ না নিলে আবারও ধ্বংসের ধারা শুরু হয়। বিনিয়োগকারীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন রাশেদ মাকসুদ অপসারণ ছাড়া পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীর নয়, বিএসইসির সাবেক স্বনামধন্য চেয়ারম্যানসহ সকল স্টেকহোল্ডারও একই কথা বলছেন।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে মন্দার মধ্যে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের মন্দার কারণে বিনিয়োগকারীদের রীতিমতো নীরব রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অব্যাহত পতনের কারণে অধিকাংশ বিনিয়োগকারীই ৭০ শতাংশের ওপরে লোকসানে রয়েছেন। লোকসানের কারণে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে তাদের লেনদেনের পরিমাণ আরো বেড়ে গেছে। এতে পুঁজিবাজারে এক ধনের অচল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

তাদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিনিয়োগের উপযুক্ত। বিনিয়োগকারীরা সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগ করলে ভালো মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই ভালো করে তথ্যপর্যালোচনা করতে হবে। সঠিকভাবে তথ্য পর্যালোচনা করে ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারলে লাভ পাওয়া সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

বাজার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অনেক দিন ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান দেখা গেলেও লেনদেন শেষে তা পতনে রূপ নেয়। ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সকাল থেকে পুঁজিবাজার ডিএসইর ডিএসইএক্স সূচকের উত্থানে লেনদেন শুরু হয়। তবে লেনদেন শুরুর ৪০ মিনিট পর থেকে সূচক পতনমুখী হতে শুরু করে। পরে লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৩.৯২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৮৭২ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩.৭৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২০ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৫.৫১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৮৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসইতে মোট ৩৮৭টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ১১০টি কোম্পানির, কমেছে ২০৯টির এবং অপরিবর্তিত আছে ৬৮টির। এদিন, ডিএসইতে মোট ২৬৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪০৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ৩৭.৪৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৮ হাজার ৪৩৫ পয়েন্টে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬২.৫৯ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৬৮৪ পয়েন্টে, শরিয়াহ সূচক ০.৩৬ পয়েন্ট কমে ৮৬৫ পয়েন্টে এবং সিএসই ৩০ সূচক ০.৭১ পয়েন্ট কমে ১২ হাজার ১৭৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সিএসইতে মোট ১৫৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ৩৭টি কোম্পানির, কমেছে ৯৯টির এবং অপরিবর্তিত আছে ১৮টির। সিএসইতে ১৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৩ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।