সঞ্চয়পত্র ইস্যুতে ‘ধাক্কা’ পুঁজিবাজারে, সূচক ও লেনদেনে ভাটা
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর ঘোষণা আসার পর পুঁজিবাজারে টানা দুই কার্যদিবস সূচকের বড় উত্থান দেখা যায়। তবে পরে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের গতিও। ফলে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, গত ৩১ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার নির্ধারণ করে সরকার। স্কিমের ধরন অনুযায়ী মুনাফার হার সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয় ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত। যা আগে ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত। অর্থাৎ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ১ শতাংশের ওপরে কমানো হয়।
তবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর পর নতুন বছরের দুই কার্যদিবস পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থান হয়। তেমনি এক মাসের বেশি সময় পর ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে পাঁচশ কোটি টাকার ঘরে উঠে আসে। কিন্তু গত রোববার বিকালের দিকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরকার। এতে পুঁজিবাজারে ফের দরপতন হয়েছে।
ডিএসইর সূত্র মতে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে পুঁজিবাজার ছিলো বেশ অস্থির। অস্থিরত মধ্য দিয়েই লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকে। কিন্তু এরপর লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দাম কমার তালিকা বড় হয়। ফলে বেশিরভাগ কোম্পানির দরপতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত রোববার সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার বাতিল করে পুরোনো হার বহাল রাখার প্রজ্ঞাপন জারি করার জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) অনুরোধ করেছে অর্থ বিভাগ। এর নেতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েছে। এর আগে গত দুই কার্যদিবস পুঁজিবাজার বেশ ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে ছিল। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাজার তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৫৪ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক .০৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৮৬ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৯ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৩ টির, দর কমেছে ১৮৯ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৭ টির। ডিএসইতে ৪৮৫ কোটি ৮১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৫১ কোটি ৬০ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৩৭ কোটি ৪১ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৩৯ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৬০ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৬৬ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭৬ টির এবং ১৮ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



