নির্বাচন ইস্যুতে প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে, আস্থা সংকটে বিনিয়োগকারীরা
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: শেখ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর দেশের পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। তাদের প্রত্যাশা ছিল এবার পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান ঘটবে, বাজার হবে গতিশীল ও আস্থাভিত্তিক। কিন্তু বাস্তবতায় সেই আশার প্রতিফলন গত ১৭ মাসে দেখা যায়নি। তেমনি ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সংস্কারের ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেলেও পুঁজিবাজারে তার কোনো ছোঁয়া লাগেনি।
এমন অবস্থায় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম। এ সময়ে দেশের পুঁজিবাজার চাঙ্গা হওয়ার আশা করা হলেও নির্বাচনের কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্যান্য জাতীয় নির্বাচনে দেশের পুঁজিবাজার তেজিভাবে ছিল। এবারও সেই আশায় ছিল বিনিয়োগকারীদের। তবে বিগত সময়ে আর্থিক খাতের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছেনা। ইতিমধ্যে ৫টি ব্যাংক একীভূত ও ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে সরকার।
\পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এসব কোম্পানির শেয়ার কিনে নিঃস্ব বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছেন। ফলে আর্থিক খাতের ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির প্রভাবে দেশের পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট আপাতত কাটছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট চরমে। কারণ দীর্ঘ দুই বছরের টানা দরপতনে অধিকাংশ বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারিয়েছে। তেমনি পুঁজিবাজারের নেতিবাচক প্রবণতা কোনো এক বা দুটি ইস্যুর কারণে নয়। সার্বিকভাবে মানুষ পুঁজিবাজারের ব্যবস্থাপনায় হতাশ হয়ে পড়েছে।
কারণ অর্ন্তবর্তী সরকারের গত ১৭ মাসে বাজারে নানা সংস্কার হলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেনি। বরং বাজারের প্রতি আস্থা হারিয়ে বাজারবিমুখ হয়ে পড়ছেন। এ অবস্থায় সাধারণত জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে পুঁজিবাজারে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও এবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তিন সপ্তাহ পরও বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যা বিনিয়োগকারীদের হতাশার গভীরতা স্পষ্ট করে।
জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচক বাড়লেও কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৯৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯১৪ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৫ টির, দর কমেছে ১৮৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৮৩ টির। ডিএসইতে ৪২৯ কোটি ১১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৬৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৯৪ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৬৪ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৫৭ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭৯ টির এবং ২৮ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



