শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহজুড়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক ও লেনদেনের উত্থান শেষ হয়েছে। মুলত গত সপ্তাহে চার কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসে সূচকের উত্থান হয়েছে। তবে গত সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। ফলে বিদায়ী সপ্তাহে সূচকের উত্থানে টাকার পরিমাণে লেনদেন বেড়েছে।

ফলে দীর্ঘ পতনের বৃত্ত থেকে বের হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে পুঁজিবাজারে। ফলে সূচকের উঠানামার মধ্যে স্থিতিশীলতার পথে হাঁটছে পুঁজিবাজার। যার ফলে গতিশীলতার জন্য প্রস্তুত পুঁজিবাজার। আস্থা বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। মুলত দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক কাটিয়ে পুঁজিবাজারে লেনদেনের গতি ফিরতে শুরু করছে।

ফলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বাজারে যে উত্থান দেখা যাচ্ছে, তা কেবল সূচকের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয় বিনিয়োগকারীদের মনোভাবেও স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে বাজারে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

এদিকে সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১.৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫,২৩৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেনও ১৫.৩২ শতাংশ বেড়েছে। যার ফলে ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে ৪ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকার বাজার মূলধন বেড়েছে। তবে বিদায়ী সপ্তাহে উভয় পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন বেড়েছে ৯ হাজার ৫৮৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮১ কোটি টাকা। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন ৪ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা বা দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ২ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে হয়েছিল ২ হাজার ৮৯৭ কোটি ১২ লাখ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ২২৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা কমেছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৩৪ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩৭ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৭২ পয়েন্টে এবং ২ হাজার ১ পয়েন্টে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৯ টি কোম্পানি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ২৩১ টির, কমেছে ১৪১ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭ টির শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১.৮১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৩১ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ১.৯৪ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ৩৩৩ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক ১.৭৬ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ১২২ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ২.৯৩ শতাংশ বেড়ে ৯০৬ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) ০.৬৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬ হাজার ৫৭৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ১ হাজার ৪৬৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৫ হাজার ১১২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৪৪ কোটি ২১ লাখ টাকা।

অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন কমেছে ১৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইতে মোট ২৬৯টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৬০টির, দর কমেছে ৮৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২২টির শেয়ার ও ইউনিট দর।