শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে জাতীয় নির্বাচনের একটা প্রভাব সবসময় থাকে। নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয় প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশায় ভর করে নতুন করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন অনেকে। পুরোনো বিনিয়োগকারীরাও নতুন বিনিয়োগ নিয়ে আসেন। এ ছাড়া নির্বাচনের পর দাম বাড়বে এই আশায় পুঁজিবাজারে ‘বাই-সেল’ সার্কেল সক্রিয় থাকে। ফলে শেয়ারের দামেও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুঁজিবাজারে এখনো কোন প্রভাব পড়েনি।

ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে দরপতনের দিনেও দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলো। তবে অন্য খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির দরপতন হয়েছে। এতে মূল্যসূচকের পতন হয়েছে।

একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ কোম্পানি শেয়ার ও ইউনিট। ফলে এ বাজারটিতেও মূল্যসূচক কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহেরন প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে যায়। ফলে মূল্যসূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দাম কমায় লেনদেনের একপর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে যায়। এমন পরিস্থিতিতে শেয়ার দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে শুরু করে বস্ত্র ও আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো।

লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এ দুই খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। তবে অন্য খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান হাঁটে বিপরীত পথে। এরপরও দাম বাড়া ও কমার তালিকায় সমান সংখ্যক কোম্পানি থেকে দিনের লেনদেন শেষ হয়। তবে সূচকের পতন ঠেকানো যায়নি। ফলে ডিএসইতে সূচকের সাথে কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২২৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৯৮ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৬ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬২ টির, দর কমেছে ১৬২ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৯ টির। ডিএসইতে ৪৭৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১০৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৮৭ কোটি ৪১ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৮৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৬৮ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৬৬ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭২ টির এবং ৩০ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।