পুঁজিবাজারে লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠান আনতে কাজ করতে চায় ডিসিসিআই
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পলিসি হার ১০ শতাংশ হারে অপরিবর্তিত রয়েছে। যার কারণে ঋণের সুদের হার ১৬ শতাংশের উপরে পৌঁছে গেছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংক ঋণ নেওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অলাভজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে আইপিও সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এমতাবস্থায় গ্রিন চ্যানেল তৈরির মাধ্যমে সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে সরকারের সাথে কাজ করতে চায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
সোমবার ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবগঠিত সরকারের নিকট ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রত্যাশা জানান চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, আপনারা জানেন গত ১৮ মাসের মধ্যে আমরা একটা ভালো আইপিও সেকেন্ডারি মার্কেটে আসতে দেখিনি। আমরা অনেক মাধ্যমে বলেছি ব্যাংকিং সেক্টরের উপরে অতি নির্ভরতা আজকে ব্যাংক খাতকে চাপে ফেলে দিয়েছে। আমরা সরকারের সাথে কাজ করব যাতে একটি গ্রিন চ্যানেল তৈরির মাধ্যমে সরকারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা যায়। এসময় তাসকীন আহমেদ কাফকো, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, ওয়াসা, পেট্রোবাংলার মতো বড় বড় দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে কিভাবে মার্কেটে নিয়ে আসা যায় এটা নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ডিসিসিআই সভাপতি উল্লেখ করেন, অপরিবর্তিত পলিসি রেটের কারণে ব্যবসায়ীদের ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ হারে ব্যাংক ঋণ নিতে হচ্ছে, সেই সাথে খেলাপী ঋণের উচ্চ হার এবং ঋণ শ্রেণিকরণের সীমা ৯ মাস হতে ৩ মাসে নামিয়ে আনায় আর্থিক খাতের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি শিল্পখাতে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
শিল্প-কারখানায় চাহিদামাফিক গ্যাস সরবরাহ না থাকার পাশাপাশি গ্যাসের দাম নতুন শিল্প ও ক্যাপটিভের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে যথাক্রমে ৪০ টাকা ও ৪২ টাকা বৃদ্ধির কারণে আমাদের পণ্য উৎপাদান মারাত্নকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একারণে স্থানীয় চাহিদা ও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে সামগ্রিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়াও শিল্প বিষয়ক নীতিমালার ধারাবাহিকতার অনুপস্থিতি, ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশেষকরে অসহনীয় চাঁদাবাজির বিষয়টি স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনায় আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। দেশের সামগ্রিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অটোমেটেড না হওয়ায় রাজস্ব প্রদানে ব্যক্তিশ্রেণির পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা অনেকক্ষেত্রেই অহেতুক হয়রানির শিকার হচ্ছে, অনেকেই করজালের বাইরে থাকায় সরকার রাজস্ব প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হচ্ছে। সেই সাথে সরকারের রাজস্ব আহরণের গতি স্লথ হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের লজিস্টিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, জমি অধিগ্রহণের দীর্ঘসূত্রিতা ও জমির উচ্চমূল্য, চট্টগ্রামবন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিভিন্ন সেবার হার গড়ে ৪১% বাড়ানো, আভ্যন্তরীণ নদীপথের কার্যকর ব্যবহার না থাকার কারণে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় কয়েকগুন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে পণ্য উৎপাদান ও বিতরণ ব্যয় বাড়ছে, যেটি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
এলডিসি উত্তরণ বিষয়ে তিনি বলেন, আঙ্কটার্ডের হিসাব অনুযায়ী এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি ৫.৫ থেকে ৭ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার সম্ভবনা তৈরি হবে, যার পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও স্থানীয় অর্থনীতির বিদ্যমান অবস্থা বিবেচনার আমাদের রপ্তানিখাতের বড় ধরনের নেতিবাচক অগ্রগতি কোন ভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
সেই সাথে বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবচেনায় বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ কমপক্ষে তিন বছর পিছিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিষয়ে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, এর ফলে তৈরি পোষাক খাতে শুল্ক মুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত হবে না,
এছাড়াও এলএনজি সহ অন্যান্য পণ্য আমদানিতে শর্তারোপের কারণে আমাদের ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিবে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সাথে পুনঃআলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্তাবলী সংশোধনের জন্য নতুন সরকারের প্রতি জোরারোপ করেন তাসকীন আহমেদ।



